ফজল উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার, ছাতক
সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি নতূন কবরস্থানে আগুনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন ভাবে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এতে উৎসুক জনতা আগুন দেখতে তাৎক্ষনিক কবরের পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন। বিষয়টি এলাকার মানুষের মুখে মুখে চাউর হচ্ছে। একটি ফেইসবুক লাইভে এমন কাণ্ড দেখে কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে।
জানাযায় গেল বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর (পূর্বচানপুর) গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে মানুষিক ভারসাম্যহীন ইউসুফ আলী (৫০)। ওইদিন বাদ আসর জানাজার নামাজ শেষে তকিপুরস্থ তেতইখালী ব্রিজের পাশে একটি কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে ওই কবরস্থানের পাশে আগুন দেখতে পায় স্থানীয় কিছু পথচারিরা। এর পর থেকে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় মুখে মুখে বিষয়টি চাউর হয়ে যায়। আগুন দেখার জন্য স্থানীয় উৎসুক জনতাও ভিড় জমায়। কবরে আগুন এমন ক্যাপশন দিয়ে জনৈক এক টিকটকারও লাইভ করে ব্যাপক সাড়া পড়ে। মধ্যরাতে লাইভটিও মুছে ফেলা হয়। শুক্রবার সরজমিন গিয়ে কবরের কোথাও আগুনের কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তকিপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আতিকুর রহমান বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তিসহ তার পরিবারে একাধিক লোক মানসিক ভারসাম্যহীন। ওই লোকটিও দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। জানাজার নামাজও তিনি পড়িয়ে কবরস্ত করেছিলেন। এশার নামাজের পর কবরে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে সরজমিনে তিনি কবরস্থানে এসেছিলেন। আগুনের মতো কিছু একটা তিনিও লক্ষ করেছিলেন। কিছু তদবিরও করেন। তবে কবরে নয়, দুই তিনহাত দূরে ছিল আগুনের মতো দৃশ্য। তার ধারণা এ আগুনটি কবরের কিংবা অলৌকিক নয়, ফেরত জিন এমন কাজ করেছে। তাৎক্ষনিক বুঝতে না পারলেও রাতে ঘুমন্ত অবস্থা তাকে খুব বিরক্ত করেছে। এ জন্য তিনি এ আগুনের দৃশ্যকে ফেরত জিনের বলের দাবি তার। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত কিংবা গুজব না ছড়ানোর জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
Copyright © 2025 Daily Frontier News | Design & Developed By: ZamZam Graphics