Daily Frontier News
Daily Frontier News

লিবিয়া থেকে দেশে ফেরার আকুতি চুনারুঘাটের আল আমিনের

 

আব্দুল জাহির মিয়া (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:-

দালালের মাধ্যমে ৬ মাস আগে লিবিয়ায় গিয়ে আটক হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের আল আমিন ভিডিও বার্তায় দেশে ফেরার আকৃতি জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে এ ভিডিও টি সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে লিবিয়া দুতাবাস জানিয়েছে, আল আমিনসহ আটককৃতরা দুতাবাসের তত্বাবধানে কোম্পানীর ডরমেটরিতে রয়েছে। তাদের দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আল আমিন তাঁর পরিবারের কাছে পাঠানো কান্নাজড়িত এক ভিডিও বার্তায় জানায়, চুনারুঘাটের টেকারঘাট গ্রামের মেম্বার আবুল হাসিম আমারে লিবিয়া পাঠায়। সেখানে আমাকে বিক্রি করে দেয়, আমার জীবণটা ধংস করে দিয়েছে। ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে সে আমাকে এখানে পাঠিয়েছে। প্রথমে আমাকে সে জাল ভিসা দেয়, পরে একটি ক্লিনার ভিসা দিয়ে লিবিয়া পাঠায়। সেখানে কন্ঠাক্টারের কাছে বিক্রি করে দিছে। এখন আমি দেশে যাইতে পারি না। মাসে ৬শ দিনার বাংলাদেশী টাকা ১০ হাজার টাকা আমার জরিমানা লাগে। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এত টাকা আমি কিভাবে দিব। ৫১ সেকেন্ডর ভিডিও ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়।
অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আল আমিন এবং হবিগঞ্জের ধুলিয়াখালের গোপায়া গ্রামের আব্দুল কাদের সহ ২৭ জন একটি ঘরে আবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তারা সবাই দেশে ফেরার আকুতি করছেন।
এদিকে ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে লিবিয়া দুতাবাসের। এক বিবৃতিতে দুতাবাস জানায়, বিভিনন্ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত “হবিগঞ্জের অর্ধশত যুবক লিবিয়ায় বন্দী দশা থেকে দেশে ফেরার আকুতি” শীর্ষক ভিডিও বার্তাটি দূতাবাসের নজরে এসেছে। উক্ত বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, প্রকৃতপক্ষে ২৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক মিসরাতা থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা কোনোভাবেই বন্দী অবস্থায় নেই; বরং লিবিয়ায় তাদের নিয়োগকারী এজেন্সির ডর্মিটরিতে অবস্থান করছেন।
বর্ণিত বাংলাদেশিরা পূর্বে মিসরাতায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তবে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তারা দেশে ফেরার আবেদন জানান। অন্যদিকে, কোম্পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাদের ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করে। এই পরিস্থিতিতে ১০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল মিসরাতা পরিদর্শন করে স্থানীয় প্রশাসন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং ভুক্তভোগী কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়।
দূতাবাসের নিরলস প্রচেষ্টা এবং লিবিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে গত ০১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে মান্যবর রাষ্ট্রদূত ও মিনিস্টার (শ্রম) কোম্পানি পরিদর্শন করেন এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় কোম্পানিতে বর্ণিত ২৭ জনসহ প্রায় ৭০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখের পর যেসব কর্মী দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন, তাদেরকে কোম্পানির পক্ষ থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের পর দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করা ২৭ জন কর্মীকে নিয়োগকারী এজেন্সির ডর্মিটরিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে অবস্থান করছেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত খাবার-দাবার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ডর্মিটরিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ডর্মিটরিতে একাধিক থাকার রুম, খোলা জায়গা, পৃথক রান্নাঘর ও টয়লেটসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ডর্মিটরিটি লিবিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত।
দূতাবাস ইতোমধ্যে তাদের দেশে পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সাথে যোগাযোগ করেছে। আইওএম-এর মিসরাতাস্থ প্রতিনিধি ডর্মিটরি পরিদর্শন করে তাদের সকলের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। আইওএম ২০২৫ সালের নতুন বরাদ্দের ভিত্তিতে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। এছাড়া, বর্ণিত বাংলাদেশি নাগরিকরা যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। আগামী ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মান্যবর রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের প্রতিনিধি দল ডর্মিটরি পরিদর্শন করে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, উক্ত ২৭ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তাদের একজন চুনারুঘাটের আল আমিন। তাদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের নিজেদের কাছেই রয়েছে। তারা সম্পূর্ণ মুক্ত এবং স্বাধীনভাবে ডর্মিটরিতে অবস্থান করছেন।

Daily Frontier News