Daily Frontier News
Daily Frontier News

২শ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত চৌধুরী বাড়ি


বিশেষ প্রতিনিধি।।

সবুজ ও বাংলার ইতিহাস আর ঐতিহ্যের খোঁজে গিয়েছিলাম লোকালয় ছেড়ে দূরে অপরূপ সৌন্দর্যের ফেনীর ফুলগাজীতে অবস্থিত অপু চৌধুরী বাড়ীতে। ঐতিহ্যে আর নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর এ অপু চৌধুরী বাড়ি জেলার অন্যতম ভ্রমণকেন্দ্র।

পুরোনো স্থাপত্য মানেই তো অপূর্ব কারু কাজ করা অট্টালিকা। যার দেওয়ালে পরতে পরতে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যসহ নানা ঐতিহ্য বুকে ধরে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ফেনী জেলার অপু চৌধুরী বাড়ি। মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি বিচরিত দুই শতাধিক বছরের পুরাতন বাড়িটি দেখতে ছুটে আসেন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষজন।

এই বাড়ীর উত্তরাধিকারী অপুরঞ্জন চৌধুরী জানান,আমার পিতামহরা ছয় ভাই ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচ ভাই বার্মা দেশে কাঠের ব্যবসা করতেন। বাকী একজন দেশে থাকতেন। সেখান থেকে নদী পথে এই সমস্ত কাঠ এনে আমার পিতামহরা এই স্থাপনা নির্মাণ করেন। স্থাপনাটির বয়স প্রায় দুই শতাধিকের অধিক।

তিনি আরো জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন আমজাদহাট ইউনিয়নের মধ্যে এই বাড়িটা সবচাইতে বেশি বিধ্বস্ত হয়েছিলো। সেই থেকে এই বাড়িটির পুনর্বাসন বা পুনঃনির্মাণ কাজ মোটেও করা হয়নি। এই ঘর গুলো দোতলা বিশিষ্ট। এই ঘরে এখনো মানুষ বসবাস করে।

এই স্থাপত্য নির্মাণের কাঁচামাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই স্থাপত্যের সমস্ত কাঠগুলো তৎকালীন বার্মাদেশ থেকে চট্রগ্রামে আসতো। পরে চট্টগ্রাম থেকে মহুরি নদী হয়ে আমাদের বাড়ীর পাশের কহুয়া খালে আসতো। খাল থেকে শ্রমিকরা বিভিন্ন ভাবে কাঠ গুলো বাড়ীতে নিয়ে আসতেন। এই স্থাপত্যে যে ইট গুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো আমাদের বাড়ীতেই কারিগররা তৈরী করতো। এইসব কারিগরদের বসতি ছিলো ঢাকায় তারা সুদূর ঢাকা থেকে এসে এই সমস্ত স্থাপনা গুলো নির্মাণ করেন। এই প্রচীন স্থাপত্য নির্মাণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে বার্মা দেশের কাঠ, ইট, তৎকালীন সিমেন্ট ছিলো না সিমেন্টের বদলে ছিলো সুরকী। এই সুরকী সিমেন্টের চাইতেও শক্তিশালী৷

দুইশতাধিক বছরের স্থাপনা দেখতে এসে শাহাজান সিরাজ নামে এক যুবক জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিচরিত এই স্থাপত্যটিআমজাদহাট ইউনিয়নের মধ্যে আছে তা অনেকের অজানা। এই বাড়ীতে প্রচীন দু’টি স্থাপনা খুবই চমৎকার।

খেজুরিয়া মমতাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এই বাড়ীটিতে লেগে আছে। আমাদের দাবি এই বাড়ীটি ফেনী জেলার প্রচীন স্থাপত্য গুলোর তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস স্বচোখে জানুক।

Daily Frontier News