Daily Frontier News
Daily Frontier News

ভাল মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে

 

গাজী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।।

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব । এ সমাজে বাস করার যেমন অনেক সুবিধা অনেক স্তুতি, তেমনি এই সমাজই মানুষকে দেয় যন্ত্রণা। সমাজে বাস করলে বিপদে আপদে সমাজের অন্য মানুষদের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা আশা করা যায়। অবশ্য সব সময়ই যে তা পাওয়া যাবে এমন গ্যারান্টি নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও সামাজিক ছত্রছায়া সমাজে ব
সবাসকারীদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাবোধের জন্মা দেয়। নিষ্ঠার সঙ্গে সামাজিক নিয়ম-কানুন মেনে চলা মানুষের মধ্যে বোধ ও বিশ্বাস জাগ্রত হয়। বিপদে আপদে সমাজের আর দশটা মানুষ এগিয়ে আসে ; আর আসাই স্বাভাবিক।
কিন্তু বাস্তবে কি তা হচ্ছে? আমরা কি প্রতিবেশীর বিপদে সর্বদা সাহায্যের হাত বাড়াই? রাস্তায় একজন দুস্থ মানুষকে পড়ে থাকতে দেখলে কি আমরা পথ চলা থামিয়ে তার পরিচর্যা করি? তবে এটা ঠিক যে রাস্তা পড়ে থাকা একজন দুস্থ মানুষকে দেখে সব দেশের সব সমাজের মানুষ একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখায় না। বলতে গেলে একটা সমাজের বিকাশের মাত্রার উপরই সাধারণ মানুষের প্রত্যেক প্রতিক্রিয়ার ধারণা নির্ভর করে‌। কোন কোন সমাজে একটা লোক রাস্তায় পড়ে আছে এবং অন্য পদচারীরা তার খোঁজ-খবর না নিয়ে নির্বিকার চলে যাচ্ছে, এমন দৃশ্য কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে, আমরা জানি , এমন দৃশ্য অহরহ দেখতে পাচ্ছি কিংবা আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে এমন দৃশ্যে আমরা নিজেরাই অংশগ্রহণ করছি।
কিন্তু কেন এমন হয়? এ নিয়ে কি আমরা চিন্তা করি; এক্ষেত্রে একটু আত্বজিজ্ঞাসা করে দেখা যাক। আমার তো মনে হয় , এ দেশের মানুষের এরূপ আচরণের কারণ সম্পর্কে অনেকেই বলবেন যে, এই সমাজে নিঃস্বার্থভাবে কারো উপকার করতে গেলেও অনেক সময় খামোখা উটকো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে হয়। যেমন পথে পড়ে থাকা কারো সাহায্যে এগিয়ে আসলে হাসপাতালে, পুলিশে, এমন কি আদালত পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এসব জায়গাগুলোতে সহযোগিতা তো পাওয়া যায় না বরং এক্ষেত্রে জড়িত ব্যক্তিদের অনেক সময় ভোগান্তির শিকার হতে হয়।সমাজের নেতিবাচক ভূমিকা ভাল নাগরিকের জন্য অনেক সময় হতাশা বয়ে আনতে পারে। অন্যদিকে সমাজের অধিকাংশ মানুষ শিক্ষিত, সৎ ও সাহসী হলে সমাজের এই অপকারী দিকটি অনেক কমে আসবে । তখন হয়তো সমাজের মানুষ অহেতুক হুজুগেও মাতবে না। যে কোন কাজ করার পূর্বে পরিস্থিতির ভালো-মন্দ বিচার করবে। যেমন ধরুন, এখন আমরা প্রায় শুনি জনতা নানা অজুহাতে পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলে। রাস্তায় নিরাপরাধ মানুষের গাড়ি ভাঙে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক কারণে। এমনই অনেক বিবেক বর্জিত কাজ যারা করে তারা যদি সমাজে নিন্দীত/ঘৃনিত হওয়ার সম্মুখীন হয়, তাহলে এমন কাজে লিপ্ত হওয়ার উৎসাহ হয়তো তাদের থাকত না ।কিন্তু সমাজে এই পরিস্থিতি নেই এর অন্যতম প্রধান কারণ সম্ভবত এই যে, অধিকাংশ মানুষ দেখেছে এই সমাজে আইন সংগত উপায়ে অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া যায় না । এই পরিস্থিতিতে যেমন একদিকে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় , অন্যদিকে চোখের সামনে অন্যায় হতে দেখলেও চুপ করে থাকার প্রবণতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এতে মানুষ ইতিবাচক সবকিছুর উপর বিশ্বাস হারিয়ে ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে/ সরে যাচ্ছে ।যার কারণে, কাউকেই নিঃস্বার্থভাবে উপকার করত মানুষ ভুলে যায়, ঝামেলার আশঙ্কায় একান্ত বিপদগ্রস্ত কাউকে চোখের সামনে দেখেও না দেখার ভান করে নির্বিকার চলে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণ নিশ্চয়ই অনেক কিন্তু একেবারে মোটা দাগে বিবেচনা করলে এর প্রধান কারণ গুলো , একদিকে সমাজে দুর্নীতি, অপরদিকে অশিক্ষা ও কুশিক্ষা। দুর্নীতি সমাজটাকে বসবাসের প্রায় অযোগ্য করে তোলায় মানুষ এখন দারুন হতাশায় ভুগছে। অশিক্ষা- কুশিক্ষা ভাল মানুষ, সৎ নাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। দুর্নীতির কারণে আজ রক্ষকরাই হয়েছে ভক্ষক, পরীক্ষায় নকল আর শিক্ষাঙ্গনে মস্তানি- সন্ত্রাসের কারণে শিক্ষা হয়ে যাচ্ছে কুশিক্ষা । সর্বোপরি বর্তমান ব্যবস্থায় বিপুল সংখ্যক মানুষ শিক্ষার সুযোগই পাচ্ছে না। এটা ঠিক যে দেশের সব মানুষকেই রাতারাতি সুনাগরিক/ ভালো মানুষে পরিণত করা সম্ভব নয়।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাটাকে বদলাতে সময় লাগবে কিন্তু কেউ সৎ উদ্দেশ্যে কিছু করতে গেলে তিনি যেন অপদস্থ না হন শুরুতে অন্তত সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করার কাজে হাত দিতে হবে রাষ্ট্র ও সচেতন মহলকে। সৎ ও বিবেকবান মানুষদের সংগঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন । কারণ সংগঠন বড় শক্তি। নিঃস্বার্থভাবে কেউ সমাজের জন্য উপকারী কোনো কাজ করলে তাকে যথাযথ স্বীকৃতি দিয়ে আন্তরিক প্রশংসা করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনীতিকরা আন্তরিক হলে এক্ষেত্রে বেশি সুফল আশা করা যায়। সরকারের সৎ ইচ্ছা, মহৎ ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সহযোগিতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি মানুষের টেনশন খানিটা কমাতে পারে। আর এসব প্রাপ্তি সাপেক্ষে সৎ, সুনাগরিক, ভাল ও সুন্দর মনের মানুষ ও সমাজ বিষয়ে চিন্তা এবং সফলতার অগ্রগতি হতে পারে । কারণ এ কথা সত্য যে, “নিজে বাঁচিয়ে কেবল বাপের নাম” আমাকে যদি সর্বদাই নিজের অস্তিত্ব রক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে অন্যকে রক্ষার কাজে অগ্রসর হওয়ার অবকাশ কোথায়? এক্ষেত্রে ব্যক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের জন্য যেমন দরকার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তেমনি প্রয়োজন আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন, সরকার ও ভালো মনের মানুষদের এগিয়ে আসা। দেশের স্বার্থে এ কাজে সবাই এগিয়ে আসলে সমাজে মানুষের মধ্যে পরস্পরকে প্রশংসা করার প্রবণতা বাড়বে। ভালো মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে অগ্রসর সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। দুনিয়ার মানব জীবনে নিজের স্বার্থ রক্ষা ছাড়াও যে আনন্দ আহরণের অনন্য চাবিকাঠি রয়েছে এই বিশ্বাস অনুভূতি জড়িয়ে দিতে হবে সমাজে । আমার ধারণা এখনো এই সমাজে অনেক সু-নাগরিক, সৎ ও যোগ্য মানুষ, মানব কল্যাণে নিঃস্বার্থ সেবা/ভালবাসা মনের মধ্যে রেখে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু পরিস্থিতির বিপাকে তারা অগ্রসর হতে পারছেন না । যে সমাজে মন খুলে কথা বলা

Daily Frontier News