Daily Frontier News
Daily Frontier News

বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগী # প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

নাঙ্গলকোটে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে জাল দলিল সৃজন করে ৮৩ শতক জায়গা দখলে নেয়ার অভিযোগ
# বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগী
# প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রভাবশালী চক্র ভুয়া ও জাল দলিল সৃজন করে ৮৩ শতক ভুমি জোরপূর্বক দখলের নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে ভুক্তভোগী সিএনজি অটোরিকশা চালক সাদ্দাম হোসেন প্রভাবশালী ভুমি দস্যুদের বাঁচতে দুদক, সেটেলম্যান্ট অধিদপ্তর, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভুমি, ঢালুয়া ভুমি অফিসে বারবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলার ১২নং ঢালুয়া ইউনিয়নের মন্নারা গ্রামের মধ্যমপাড়া মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন জায়গা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা চলমান রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মন্নারা গ্রামের মৃত আবদুল হালিমের ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক সাদ্দাম হোসেন বাড়ির পাশের মসজিদের জায়গা থেকে বাঁশ কাটা নিয়ে পাশের বাড়ির মৃত গণু মিয়া ভেন্ডারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, মৃত মুনাফ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবু, মৃত রহমত উল্লাহর ছেলে আনোয়ার হোসেন, আলী আহম্মেদের ছেলে কবির আহম্মেদ, মৃত মানিক মেম্বারের ছেলে সুফল, মৃত রঙ্গু মিয়ার ছেলে ইদ্রিস মিয়া গং তাকে মারধর করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, প্রভাবশালী ভুমিদস্যু চক্র সাদ্দাম হোসেনের দাদা সেকান্তর আলীকে দাতা দেখিয়ে ১৯৯৬-২০০০ সালে ৮টি ভুয়া ও জাল দলিল সৃজন করে ১০৪ শতক ভুমি আত্মসাতের চেষ্টা চালায়। দলিলগুলোতে মূল মালিকের স্বাক্ষর মিল পাওয়া যায়নি। নেই ভায়া দলিল, সাবেক ও হাল দাগের মিল নেই। দলিলগুলো হলো; ১৯৯৬ সালের ২০ এপ্রিল আবদুল হান্নানকে গ্রহীতা ও সেকান্তর আলীকে দাতা দেখিয়ে ৩৬/৯নং দলিলে ৯৩৩ নং দাগে ৩ শতক, একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সফিউল আলম, রবিউল আলমকে গ্রহীতা ও সেকান্তর আলীকে দাতা দেখিয়ে ৭৪৩৩নং দলিলে সাবেক ৯৩২নং দাগে ৩ শতক, একই দিন মসজিদের জন্য সেকান্তর আলীকে দাতা দেখিয়ে ৭৪৩২/৯৬নং দলিলে সাবেক ৯৩৩/৯৩২নং দাগে ২৭ শতক, ১৯৯৭ সালের ৩ জুন জয়নাল আবেদীনকে গ্রহীতা ও সেকান্দর আলীকে দাতা দেখিয়ে ৬১৯১ নং দলিলে সাবেক ৯৩২ নং দাগে ৩ শতক, ৬১৯০ নং দলিলে ৯৩২নং দাগে ৩ শতক, ৬১৯৬নং দলিলে সাবেক ৯৩৩নং দাগে ১৪ শতক, ৬১৯২নং দলিলে সাবেক ৯৩৩/৯৩২ নং দাগে ২৭ শতক, ২০০০ সালের ২১ ডিসেম্বর আবদুল গফুরকে গ্রহীতা ও সেকান্তর আলীকে দাতা ১২২৭২নং দলিলে সাবেক ৯৩২ নং দাগে ৩ শতক ভুমির জাল দলিল সৃজন করে।
দলিলগুলোর বিষয়ে সাদ্দাম হোসেনের দায়েরকৃত অভিযোগে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি অফিসে শুনানী চলমান অবস্থায় প্রভাবশালী মহল চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে রাজি হয়নি। তাছাড়া আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় ওই ৮টি দলিল সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
উভয়পক্ষের মামলা কুমিল্লার আদালত ও হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। ভুক্তভোগী সেকান্তর আলীর পক্ষে ১৯৯৪ সালের ৩০ মার্চ নাঙ্গলকোট সহকারী জজ, ১৯৯৬ সালের ৫ মার্চ সাব জজ ৩য় আদালত কুমিল্লা, ১৯৯৯ সালের ২১ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব কুমিল্লা, একই বছরের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ রায় প্রদান করেন। এরপর হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটির দায়িত্ব সহকারী জজ নাঙ্গলকোটের উপর দেন। সহকারী জজ নাঙ্গলকোট পর্যালোচনা শেষে আবু বিবি গংয়ের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে গ্রাম্য মাতব্বদের পরামর্শক্রমে জেলা জজ আদালত কুমিল্লার আদেশক্রমে ছোবনামার মাধ্যমে দুই দলিলে সেকান্তর আলী গং ১০৪ শতক ভুমির মালিক হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহলের সৃষ্টি করা দলিল অনুযায়ী ১৯৯৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সেকান্তর আলীকে দানপত্র দিয়েছেন মর্মে ৭৪৩২/৯৬নং দলিলে সাবেক ৯৩৩/৯৩২নং দাগে ২৭ শতক জায়গার দলিল সৃষ্টি করে। এটি ওয়াকফ্ করা হয়েছে মর্মে এলাকায় প্রচার করা হয়। দলিলে হাল দাগ বা সাবেক দাগ উল্লেখ না থাকায় ওয়াকফ্ সঠিক হয়েছে কি না এনিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদি সেকান্তর আলীর ওয়াকফ্ সঠিক হয় তাহলে তার ছেলে বা নাতিদের মসজিদ পরিচালনার কোন দায়িত্ব বা মোতয়াল্লী হিসেবে রাখা হয়নি। ২০১৭ সালের শেষের দিকে সেকান্তর আলীর ছেলে আবদুল হালিম মারা যাওয়ার আগে সাদ্দাম হোসেনসহ পরিবারের লোকজনের কাছে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে কোন মানুষ মারা গেলে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করতে চাইলে প্রভাবশালী দেলোয়ার হোসেন ও মোতায়াল্লী দাবি করা শফিকুর রহমান মৃত মানুষের পরিবারের নিকট টাকা দাবি করে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী মহল।
বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন কোন সুরাহা না পেয়ে ্েক্ষাভ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, মামলা ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য খরচ করতে করতে বর্তমানে তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সাদ্দাম হোসেন প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জামাল উদ্দিন স্বপন
কুমিল্লা
০১৭১১ ৯৫ ০০ ৪০

Daily Frontier News