মাসুদ পারভেজ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
কোনো বিদেশি চাপ বা শক্তি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে দমাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। আগামী নির্বাচনে আরও বেশি সমর্থন নিয়ে শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে সমালোচকরা যাই ভাবুক না কেন, জয় আমাদের হবেই।
সোমবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথমবারের মতো দুইশো মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ বার্থিং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ নিজস্ব শক্তি ও সাহস দিয়ে এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকে মনে করছেন এটা নির্বাচনের বছর। আগামী জাতীয় নির্বাচনে কী হবে? আমি একটি কথা বলতে চাই, দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়নের ফলে এখন খেটে খাওয়া মানুষের ছেলেমেয়েরা মেডিকেলে পড়াশোনা করে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়। তারা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে। বর্তমানে সবার সন্তান স্কুলে যায়। তাদের শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। মানুষ এখন শেখ হাসিনার বিকল্প কিছু ভাবছে না।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অনেক বিদেশি বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। এখন আমরাই সিদ্ধান্ত নেবো কাদের বিনিয়োগ নেবো। মীরসরাই শিল্পাঞ্চলে পরিকল্পিত বিনিয়োগ হচ্ছে। এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য বিদেশিরা আগ্রহী। এজন্য তারা চায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৪ বছরে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল বলেই আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই গত ১৪ বছরে বন্দর এক ঘণ্টার জন্যও বন্ধ হয়নি। এতেই উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির পর রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বে-টার্মিনাল ২০২৪ সালে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতিতে দুই বছর চলে গেছে। এখন বে-টার্মিনালের চট্টগ্রাম বন্দর অংশে মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। যেভাবে কাজ চলছে তাতে ২০২৫ সালের শেষে বা ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বে-টার্মিনালের বন্দর অংশের মাল্টিপারপাস টার্মিনাল চালু হতে পারে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দেশে কোনো ডলার সংকট নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও বে-টার্মিনাল নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বায়নের যুগে লোকাল ও গ্লোবাল বলতে কোনো কথা নেই। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বন্দরও এগিয়ে যাবে। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশ। বন্দরের পিসিটি অপারেশনে আমরা গ্লোবাল ইনভেসটরদের চেয়েছি। অনেকে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারপরও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কিছু কাজ বাকি আছে। শিগগির এ কাজ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বে-টার্মিনাল এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বে-টার্মিনাল হলে বাংলাদেশকে আগামী ৫০ বছর চিন্তা করতে হবে না। আর দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে নিয়মিত কর্ণফুলী ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, নৌ পরিবহন সচিব মোস্তফা কামাল, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মো. আরিফ, বন্দর চ্যানেলে গভীরতা নিয়ে সম্ভাব্যতা পরিচালনাকারী ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান এইচআর ওয়েলিংটনফোর্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. মনজুরুল হক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন উড়িয়ে বন্দরে দুইশো মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ বার্থিং উদ্বোধন করা হয়। এর আগে গতকাল রোববার বিকেলে ‘এমভি কমন এটলাস’ নামের বাল্ক জাহাজটি বন্দরের সিসিটি-১ টার্মিনালে ভেড়ে। জাহাজটি ৬০ হাজার ৫০০ টন র’ সুগার (অপরিশোধিত চিনি) নিয়ে ব্রাজিলের সান্তোস থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। বহির্নোঙরে খালাস করে গভীরতা কমিয়ে ১০ মিটারে আসার পর বন্দরের অভ্যন্তরে আসে। এটি চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে বন্দর টার্মিনালে বার্থিং পাওয়া সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ও গভীরতার জাহাজ।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ১৮৬ মিটার লম্বা এবং ৯ দশমিক ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বন্দরে ভেড়ানো যেতো। এরপর আরও বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা চালু করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে সর্বোচ্চ ১৯০ মিটার লম্বা ও সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বন্দরে ভেড়ানো যেতো।
এরই মধ্যে বন্দরে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভেড়ানোর উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচআর ওয়েলিংফোর্ডকে দিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। ওই সমীক্ষায় বন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে বড় জাহাজ ভেড়ানো যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপরই জেটিতে ২০০ মিটার লম্বা ও ১০ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য) জাহাজ ভেড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
Copyright © 2026 Daily Frontier News | Design & Developed By: ZamZam Graphics