আলমগীর হোসেন বিজয়নগর প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
. রাষ্ট্রের অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনী। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। যে পুলিশ বাংলাদেশ মান চিত্রের অভ্যন্তরে সকল জন সাধারণকে জান মালের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। আর সেই পুলিশ যখন জীবনের বৃহত্তম সময় দেশের জনগণের জন্য বিসর্জন দিয়ে আসে, হওক সেটা অর্থের বিনিময়ে। সেই পুলিশ পরিবার এখন অনাহারে, অর্ধাহারে, ফুটপাতে, বৃক্ষের নিচে, গৃহহীন, রাস্তায় রাস্তায় অবহেলিত অবস্থায় বসবাস করে আসছে।
. জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার ২নং চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল শুক্কুরের ছেলে আব্দুল জলিল ওরফে ধিরা মিয়া। পিতা ছিলেন একজন স্বল্প আয়ী ব্যবসায়ী। আব্দুল জলিল সহ ৫ ভাই ৩ বোন নিয়ে অভাব অনটনে দিন যাপন করতেন। আব্দুল জলিল ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে সংসারের হাল ধরতে নিজে প্রাইমারি তৃতীয় শ্রেণীর সমাপ্ত করতে না করতেই পরিবারের হাল ধরতে শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে সাতগাঁও গ্রামের মুক্তি যোদ্ধা পুলিশ বাহিনীতে অফিসার পদে চাকুরিজীবী আব্দুল হক চৌধুরী (জিতু মিয়া) এর সহযোগিতায় অনুমান ১৯৫২-১৯৫৩ সালে মাসিক ৪৫ টাকা বেতনে পাকিস্তান পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২৯-৩০ বছর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের আমলে চাকুরী ও জনসেবার সমাপ্তিতে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
. কোনরকম পরিবার নিয়ে টানা হিঁচড়ে দিনাপাত করতেন। চাকুরীর অবসরকালীন ভাতাতে চাহিদা মেটাতে হোঁচোটে ছোট ছোট ভাইদের দর্জির কাজ শিখিয়ে নিয়ে, চাকুরীকালীন সময়ে পরিচিত স্থানে বর্তমান হবিগঞ্জ জেলায় মাসুম টেইলার্স সাইনবোর্ডে দর্জির দোকান খুলেন। সেখানে মাসুম টেইলার্স নামে সুপরিচিত ও খ্যাতি অর্জন করে পরিবারকে মোটামুটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যান।
. পুলিশ সদস্য আব্দুল জলিল সাংসারিক জীবনে নিজ গ্রামে বিবাহ করেন। ওনার ১ছেলে ৬ কন্যা সন্তান সহ ৬ মাসের গর্বে একজন পুত্র সন্তান রেখে কঠিন রোগে ৭ই মে ১৯৮১ সালে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। অভিভাবকহীন ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে আব্দুল জলিলের সহধর্মিনী মোসাম্মৎ সালেহা খাতুন জমায়েত কৃত অর্থ সম্পদ বিক্রি করে ও পেনশনের সামান্য টাকা দিয়ে পরিবারকে বাঁচিয়ে রেখে, ভূমি ও বাসস্থানহীন অবস্থায় দিনাপাত করতেন। ৭ই জুন ২০১৭ সালে ওনিও দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।
. বর্তমানে পুলিশ কনস্টেবল সেই আব্দুল জলিলের ৮ জন সন্তানের মাঝে ৩জন সন্তান অসহায়ত্বের মধ্যে ভূমি, ভিঠিহীন অবস্থায় অকালে মৃত্যুবরণ করেন। অবশিষ্ট সন্তানেরা নিজের গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় ও জেলায় অতি কষ্টে আহারে ও অর্ধাহারে ফুটপাতে বাসস্থানহীন দিনাপাত করে আসছেন।
. এই অসহায় পুলিশ পরিবারের সদস্যদের একজন নাসিমা বেগম বলেন, বর্তমানে আমরা চার বোন এক ভাই জীবিত আছি, বড় ভাই মাসুম মিয়া (মোবাইল নাম্বার 01797000415) ঢাকায় বাসস্থান হীন অবস্থায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করিতেছে, আর আমার পরিবারের কথা তো বলা বাহুল্য, আমাদেরও কোন ঘরবাড়ি নাই বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করতেছি। অন্য বোনেরাও কষ্টে দিন যাপন করিতেছে। কারো কোন বাড়ি ঘর নাই। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় ছোট ভাই জীবিত না থাকলেও তার পরিবারকে সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পে স্থান দেওয়া হয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাচ্ছি আমাদের পরিবারগুলোকে আবাসনের ব্যবস্থা করে, জীবিকার জন্য কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে।আমরা চির কৃতজ্ঞ ।
Copyright © 2025 Daily Frontier News | Design & Developed By: ZamZam Graphics