কুমিল্লা নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি
নাঙ্গলকোটের দৌলখাঁড় ইউনিয়নের দৌলখাঁড় পূর্বপাড়ার মৃত আবদুল কাদেরের পাঁচ ছেলে । বড় ছেলের নাম মোঃ শাহজাহান। সে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা । মেঝটার নাম ইমাম হোসেন। তিনি নিকাহ রেজিস্টার। তৃতীয় ছেলের নাম ইকবাল হোসেন পিন্টু । তিন এলাকায় বখাটে, বেকার ও কুখ্যাত জুয়াড়ী পিন্টু নামে পরিচিত। তবে এজন্য অনেকে দায়ী করেন বড় ভাই শাহজাহানকে । ৪র্থ জন জুয়েল কুয়েত প্রবাসী আর ৫ম ছেলে সাখাওয়াত হোসেন রুবেল । সেও জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর থেকে সৌদি আরব অবস্থান করে আসছেন।
রুবেলের স্ত্রী রাহেলা আক্তার অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। এই সুযোগে জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প সাখাওয়াত হোসেনের ভাই ইকবাল হোসেন পিন্টু (৪২) ও তার স্ত্রী পলি আক্তার (৩৫) বিভিন্নভাবে রাহেলা আক্তারকে নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে আসছে।
ইতোপূর্বে তারা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাহেলা আক্তারকে কয়েকদফা মারধর করলেও বড় ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে আইনী প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেননি শাখাওয়াত হোসেন রুবেল।
প্রবাসী শাখাওয়াত হোসেন রুবেল সাম্প্রতিক পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত আপোষ বন্টনের জায়গায় বসতঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তিনি সৌদি আরবে থাকায় তার স্ত্রী রাহেলা আক্তার নির্মাণ কাজের তদারকি করে আসছেন। ভবন নির্মাণ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ান রুবেলের বড় ইকবাল হোসেন পিন্টু ও তার স্ত্রী পলি আক্তার। ১৩ ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাহেলাকে গালমন্দ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তারা রাহেলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা চেষ্টা চালায়। এসময় তারা রুবেলের ভবন নির্মাণের নগদ ৪ লাখ ৮০ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা প্রবাসী রুবেলের বসতঘরে তালা লাগিয়ে রাহেলা আক্তার তার সন্তানদের নিয়ে পুনরায় ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদেরকে এসিডে ঝলসে দেয়ার কিংবা তাদের অবুঝ সন্তানদের গুম করার হুমকি দেয়। মুমুর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা রাহেলাকে উদ্ধার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার চেষ্টা করলেও ইকবাল হোসেন পিন্টু ও তার পক্ষীয় লোকজন তাদেরকে ভর্তি হতে বাধা সৃষ্টি করে। পরে কৌশলে রাহেলাকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। রাহেলা আক্তার পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫নং আমলি আদালতে তার ভাশুর ইকবাল হোসেন পিন্টু ও তার স্ত্রী পলি আক্তারের বিরুদ্ধে ৩২৩/৩০৭/৩৮০/৫০৬ (২) ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মামলার বাদী রাহেলা আক্তার।
প্রবাসী শাখাওয়াত হোসেন রুবেল মুঠোফোনে জানান, আমি প্রবাসে থাকার সুযোগে আমার বড় ভাই ইকবাল হোসেন পিন্টু ও তার স্ত্রী পলি আক্তার প্রতিনিয়ত আমার স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর ও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। তারা আমাকে আমার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত আপোষ বন্টনের জায়গা থেকে বিতাড়িত করতে ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের উপর নির্যাতন ও নিপীড়িন চালিয়ে আসছে। আমি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার স্ত্রীকে নির্যাতনকারী ইকবাল হোসেন পিন্টু ও তার স্ত্রী পলি আক্তারকে দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে এ বিষয়ে তিনি দূতাবাসের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করবেন বলেও জানান।
হামলার শিকার রাহেলা আক্তার জানান, আমার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ভাশুর ইকবাল হোসেন পিন্টু ও তার স্ত্রী পলি আক্তার কথায় কথায় আমাদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। তাদের অত্যাচারে আমি ও আমার সন্তানরা অতীষ্ঠ। তাদের হুমকি-ধমিকে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
আসামী পিন্টু তার সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে মামলা তুলে নিতে বাদী ও স্বাক্ষীদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে বলে বাদী পক্ষের অভিযোগ।
Copyright © 2025 Daily Frontier News | Design & Developed By: ZamZam Graphics