Daily Frontier News
Daily Frontier News

নবীগঞ্জে প্রতারক মনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সিলেট জেল হাজতে, দেশ- বিদেশে স্বস্তির নিঃশ্বাস

 

 

বুলবুল আহমেদ, নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার আসামী নবীগঞ্জের বহুরুপী নারী ফরজুন আক্তার মনি (৪০)কে বুধবার (১২ অক্টোবর) সকালে মহামান্য সাইবার আদালত সিলেটে হাজির হলে তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফরজুন আক্তার মনি মামলার শর্ত ভঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নানান অপ-প্রচার সহ আরো অনেকে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে এসে আবার শুরু করে নানান অপকর্ম। সে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় হাইকোটের জামিনে এসে সেই ঐ মামলার জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে ফেইসবুকে পোষ্ট ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে নানা রকম কটুক্তি করে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত তারিখে আসামী ফরজুন আক্তার মনি উপস্থিত না হলে মহামান্য সাইবার আদালত সিলেটের বিচারক আবুল কাশেম সরকার তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সে বুধবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে সাইবার আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

কে এই মনি? এমন প্রশ্ন দেশ- বিদেশের সকলের।
মনির দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে সিআইডির এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। বহু রূপের অধিকারী মনি বিশেষ করে নিজেকে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আত্মীয় ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের মেয়ে! আবার অনেকের কাছে ভাতিজি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে মানহানীকর মিথ্যা স্ট্যাটাস সহ বিভিন্ন ভূয়া একাউন্ট খোলে প্রতারণা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে সে প্রতি রাতেই নারীদের বিভিন্ন অশালীন ম্যাসেজ দিতো মনি। তার টার্গেট ছিল- নারী জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা ও স্কুল-কলেজের ছাত্রী। এদেরকে ম্যাসেজ দিয়ে ব্ল্যাক-মেইল করতো। এসব ম্যাসেজের স্ক্রীণশর্ট প্রকাশ হওয়ায় মনি নারী না পুরুষ এনিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। প্রতারক মনির এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই মনি তার ফেইসবুক আইডিতে বিভিন্ন রকম হুমকি ধামকিমূলক ও মানহানীকর স্ট্যাটাস পোস্ট দিয়ে অপদস্ত করতো। ওই নারী দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেকে সাংবাদিক ও মানবাধীকার কর্মী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।এমনকি তার অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক এম এ আহমদ আজাদ ও এম মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ও আদালতে মামলা দায়ের করে। এর পর প্রায় ৬-৭ মাস পূর্বে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সমকাল প্রতিনিধি এম এ আহমদ আজাদ ও সাংবাদিক এম মুজিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে তার ফেইসবুক আইডিতে একাধিক মানহানীকর স্ট্যাটাস দিলে সাংবাদিক আজাদ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য প্রযুক্তি আইনে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রতারক ফরজুন আক্তার মনি পুরুষ সেজে নবীগঞ্জের উপজেলার নারী জনপ্রতিনিধি ও সাবেক মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন নারী ইউপি সদস্যসহ আরও অনেককেই অশ্লীল ম্যাসেজ পাঠিয়ে যৌন হয়রানি করে আসছিল। সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অনেকের সাথে সংখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে তাদেরকে যৌন হয়রানী করতো।
বিশেষ করে প্রবাসীদের বিভিন্ন রকম ম্যাসেজ দিয়ে নানান উপহার সামগ্রী হাতিয়ে নিতো। নাম প্রকাশে অনেকেই জানান, ফরজুন আক্তার মনি বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করতো এমন কী ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতা ও প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছিল। দাদন ব্যবসার সাথেও সে জড়িত থাকারও তথ্য রয়েছে।
এর ফলে অল্প সময়ে সে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে পুলিশ শহরতলীর জে.কে উচ্চ বিদ্যালয় পয়েন্ট থেকে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোচিত নারী মনিকে গ্রেফতার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি এনআইডি কার্ড, বেশ কিছু ভূয়া আইডি কার্ড, ৩টি মোবাইল ফোন,৫টি সিম কার্ড, একটি কলম ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও তার মোবাইলে লগইন করা একাধীক ভূয়া ফেসবুক আইডি এবং শতাধিক পর্নো ভিডিও উদ্ধার করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সমীরণ দাশ।
তাকে গ্রেফতারের পর নবীগঞ্জ উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী মোঃ শাহনওয়াজ মিলাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম এর উপস্থিতিতে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বহুরূপী ফারজানা আক্তার ফরজুন মনির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উপস্থাপন করলে, মনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সর্ব সম্মতিতে সিন্ধান্ত গৃহিত হয় এবং প্রতারক মনি কর্তৃক নবীগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকের মাধ্যমে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য নিন্দা প্রস্তাব গৃহিত হয়। ওই সময় এক জনপ্রতিনিধি প্রশ্ন তুলেন মনি নারী না পুরুষ? এরপর তার লিঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। বিতর্কিত এই মনি নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউপির কায়স্থগ্রামের জহুর উদ্দিনের মেয়ে। তার পিছনে নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানের নারী লোভী পুরুষরা তাকে সহযোগীতা করায় সে একের পর এক অপর্কম করে আসছিল। তার গ্রেফতারের খবরে দেশ- বিদেশের মানুষের মধ্যে স্বস্থির নিঃস্বাস ফেলেছেন

Daily Frontier News