Daily Frontier News
Daily Frontier News

চট্টগ্রামে এডিস মশার লার্ভা রয়েছে এমন বাসা-বাড়ির সংখ্যা নগরীতে বাড়ছে

 

 

মাসুদ পারভেজ বিভাগীয় ব্যুরোচীফ

 

ডেঙ্গু রোগের বাহক এইডিস মশার লার্ভা রয়েছে এমন বাসা-বাড়ির সংখ্যা নগরীতে বাড়ছে আগের থেকে বেশি; পাশাপাশি সচেতনতার অভাব এবং আবহাওয়ার প্রভাবে মৌসুমকেন্দ্রিক না থেকে বছরজুড়েই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে চট্টগ্রামে।

এমন প্রেক্ষাপটে এইডিশ মশা নিধনে বছরব্যাপী কার্যক্রম ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ এসেছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগের মাসওয়ারি তথ্য বলছে, গত দু’বছরের পর চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। শেষে দুই মাসে সংক্রমণ ও প্রাণহানি দুটোই বেড়েছে।

২০২২ সালের সংক্রমণের রেশ ধরে চলতি বছরের জানুযারি থেকে এখন পর্যন্ত (১৪ জুলাই) পর্যন্ত ১ হাজার ২১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস।

এর মধ্যে চলতি মাসের আক্রান্তের হার অনেক বেশি। ১৪ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭৪৮ জনের, মারা গেছেন ৪ জন। ২০২২ সালের পুরো জুলাই মাসে ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। সে হিসাবে এবার জুলাইয়ের প্রথম দু’সপ্তাহেই আক্রান্তের হার গত বছর একই সময়ের পুরো মাসের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ বেশি।

এইডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় গত রোববার থেকে নগরীতে মশক জরিপ শুরু হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা কীটতত্ত্ববিদ এনতেজার ফেরদাউছ জানান, এবার বাসাবাড়িতে এইডিস মশার লার্ভা মিলছে গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। পুরো জরিপের কাজ শেষ হলে অবস্থা কেমন তা বোঝা যাবে এইডিস মশার লার্ভ,

নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আকবর শাহ, খুলশীসহ এখন পর্যন্ত যেসব জায়গায় জরিপ দল গিয়েছে সেখানেই ডেঙ্গুবাহী মশা বেশি দেখা গেছে। ২০২২ সালে প্রতি পাঁচটি বাড়ি বা স্থাপনার মধ্যে একটিতে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছিল; এবার তা মিলছে বেশি সংখ্যক বাড়িতে, যোগ করেন তিনি।

বছরজুড়ে ডেঙ্গু রোগী
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ২০২২ সালের জুলাই থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। সবচেয়ে বেশি ছিল অক্টোবর ও নভেম্বরে। ওই দুই মাসে মৃত্যুও বেশি হয়েছিল। ডিসেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছিল, যা চলতি বছর জানুয়ারিতে আরও কমে যায়।

তবে সারা বছরই ডেঙ্গু রোগী ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এবার জুন থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। চলতি মাসে এ সংখ্যা অনেক বেশি। এটা আরও বাড়বে বলেই শঙ্কা।

এমন প্রবণতার বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, “২০২২ সাল থেকে দেখছি বছরের প্রতি মাসেই হাসপাতালে কমবেশি ডেঙ্গু রোগী থাকছে। এ বছর বিআইটিআইডিতে জানুয়ারি থেকে শুরু করে প্রত্যেক মাসেই ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল। জুনেও বেশ রোগী ছিল। কোরবানি ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এখন বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।”

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, ২০২২ সালে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় মোট ৫ হাজার ৪৪৫ জন, মৃত্যু হয় ৪১ জনের। মে মাস ছাড়া সব মাসেই রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, “সংক্রমণের প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে এইডিস মশা আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে খুব ভালোভাবে অভিযোজিত হয়ে গেছে।

“আমাদের বর্ষায়ও আগের মত নেই। ভারি বর্ষণ হলে মশার ডিম ভেসে যেত। কিন্তু ভারি বৃষ্টি হচ্ছে না।“

এমন অব্স্থায় তার পরামর্শ, মশা নিধনের কার্যক্রমটা বছরব্যাপী করতে হবে। বর্ষা শুরু হলে আর রোগী বাড়লে মশার ওষুধ ছিটিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জটিল।

জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির এই আহ্বায়ক বলেন, “ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই। জনসচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। নিজের বাড়ির আশপাশ ও বাড়ির ভিতরের অংশ পরিষ্কার রাখতে হবে। একা সিটি করপোরেশন পুরো শহরের সব জায়গা প্রতিদিন পরিষ্কার রাখতে পারবে না।”

মশক জরিপে গিয়ে এইডিস মশার উপস্থিতির কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে কীটতত্ত্ববিদ এনতেজার বলেন, আগের চেয়ে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে তবে তা আরও বাড়াতে হবে।

Daily Frontier News