Daily Frontier News
Daily Frontier News

গোপালপুর উপজেলার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি

 

 

মোঃ মশিউর রহমান, সিনিয়র রিপোর্টারঃ

 

টাংগাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি। তাঁর পিতার নামঃ মরহুম খন্দকার নুরুজ্জামান ও মাতার নামঃ মরহুমা আবেদা বেগম, স্ত্রীর নামঃ মুসলিমা ভূঁইয়া বৃষ্টি গোপালগঞ্জ সদর। বর্তমান ঠিকানাঃ পূর্ব আদালত পাড়া, ডাকঘর- টাঙ্গাইল-১৯০০, উপজেলা- টাঙ্গাইল সদর, জেলা- টাঙ্গাইল।স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম- নারুচি, ডাকঘর- হেমনগর, উপজেলা- গোপালপুর, জেলা- টাঙ্গাইল। জন্ম তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩। জন্মস্থানঃ টাঙ্গাইল। জাতীয়তা বাংলাদেশী (জন্মসূত্রে)। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরঃ ৫৫১৯২৩২৭৬২। ধর্মঃ ইসলাম, বৈবাহিক অবস্থাঃ বিবাহিত। মোবাইল নম্বরঃ ০১৭১১৩১৬৯৬৯। ভাষা দক্ষতাঃ বাংলা, ইংরেজি ও আরবি। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ১৯৭০ সালে এস.এস.সি, ১৯৭৩ সালে এইচ.এস.সি, ১৯৭৫ সালে স্নাতক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রতিবাদে ভারতে অবস্থান গ্রহণ এবং ১৯৭৬-৭৭ পর্যন্ত ভারতে অবস্থান। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সাংগঠনিক অবস্থানঃ ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তাঁর আগমন ঘটে। তিনি ১৯৬৯-৭০ সালের গণ আন্দোলন ও ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭২-৭৩ সালে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন ও ১৯৭৪ সালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তারপর রাজনৈতিক অবস্থা সচল হওয়ার পর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি সকল আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও কারাবরণঃ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৯৭৬-৭৭ দুই বৎসর পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করে দেশে ফেরত আসার পর তিনি ১৯৭৮ সালের মার্চ মাসে গ্রেফতার ও নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সাংগঠনিক অবস্থানঃ তিনি ১৯৭৯ সালে নির্বাচনে প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও ১৯৯১ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সকল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনমূলক জাতীয় নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নগ্ন হামলা প্রতিহতকরণ, এলাকার ভোট বিপ্লব ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’ আন্দোলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির পর জননেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেফতারের প্রতিবাদ, মিটিং-এ অংশগ্রহণ করেন। ২০০১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের পর নেতা-কর্মীদের ওপর অমানসিক নির্যাতন চলে। এমতাবস্থায় বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশেও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়াসহ সাহস প্রদানের মাধ্যমে সংগঠিত করে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান তিনি। ২০০২ সালে তাঁকে গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি উক্ত দায়িত্ব চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং গোপালপুর ও ভূঞাপুরকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি ২০০৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সফল সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করে বিদায় গ্রহণ করেন। ২০০৪ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।বিএনপি জোট ও এক এগারোর মধ্যেও তিনি গোপালপুর-ভূঞাপুরে দলকে চাঙ্গা করার জন্য তৃণমূল চষে বেড়িয়েছেন। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে মোট ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে দুই উপজেলা মিলে তিনি সর্বাধিক ভোট পেয়ে সংসদ নির্বাচনের তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। কিন্তু তাঁর চাচা খন্দকার আসাদুজ্জামানের অনুরোধে তিনি তাঁকে নির্বাচনের জন্য আসন ছেড়ে দেন। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে মনোনয়ন না পাওয়ায় দল মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ের লক্ষ্যে জনসংযোগ, পথসভা, সমাবেশে ভোট প্রার্থনা করেছেন। ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে এবং তাঁদের ঘোষণায় সরাসরি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং একজন সহ-সভাপতি এবং তাঁকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। পেশাজীবী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততাঃ পেশাজীবী ও শ্রমিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গণমানুষের জীবন-মান উন্নয়নে অবদান রাখা, বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ শ্রমিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা ব্যবসায়িক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততাঃ তিনি ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময়ে ব্যক্তিগতভাবে এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হয়ে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও দুর্গত মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি জেলা কারাগার এর একজন পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত। শুধু তাই নয়, তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের সদস্য। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেছেন। শতবর্ষের অধিক প্রাচীন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব’ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। টাঙ্গাইলে সেবামূলক ও ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি টাঙ্গাইল ইউনিট এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থা, টাঙ্গাইল-এর সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

Daily Frontier News