Daily Frontier News
Daily Frontier News

কামরাঙ্গীরচরে সি বি ডি প্রকল্প চান না স্থানীয় বাসিন্দারা

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল (সিবিডি) করতে চায়। তবে ডিএসসিসি এ পরিকল্পনা হাতে নেওয়ায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন সেখানে বসবাসরত প্রায় ১৫ লাখ বাসিন্দা।

শুক্রবার (৮ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ড্যাপ-কামরাঙ্গীরচর, অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন এবং জনগণের ভাবনা’শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে নিজেদের শঙ্কার বিষয়ে জানান কামরাঙ্গীরচর এলাকার বাসিন্দারা। কামরাঙ্গীরচর নাগরিক পরিষদের ব্যানারে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে তারা বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত কামরাঙ্গীরচর এলাকা। এ এলাকায় ২০ হাজারের বেশি ভবন এবং শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প রয়েছে। ডিএসসিসি যদি কামরাঙ্গীচরে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, তাহলে তা করতে হবে সেখানকার ১৫ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে। তাদের বাদ দিয়ে নয়। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্থ করে কোনো প্রকল্প ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়। বরং এখানে দখল হওয়া খাল ও নদীর চ্যানেল উদ্ধার করা জরুরি। এরকম কোনো প্রকল্পের এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের আছে কিনা, সে প্রশ্নও তোলেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা বলেন, কামরাঙ্গীরচর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অধিভুক্ত। এখানে কোনো প্রকল্প পরিকল্পনা প্রণয়ন রাজউকের কাজ। ড্যাপে কামরাঙ্গীরচর আবাসিক প্রধান মিশ্র এলাকা। এখানে ডিএসসিসির বাণিজ্যিক হাব বিষয়টি আইনসঙ্গত নয়। ড্যাপের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক হাব করা হবে বেআইনি।

বৈঠকে কামরাঙ্গীরচর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে কামরাঙ্গীরচরে বসবাস করে আসছি আমরা। আমাদের মতো আরো অনেকে তিন থেকে চারশ বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছেন। তাদের যদি উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে তারা কোথায় যাবেন?

শাহ আলম নামের এক বাসিন্দা বলেন, তারা মেয়রকে জিজ্ঞেস করেছেন, এখানে ডিবিডি বাস্তবায়ন করা হলে তারা কোথায় গিয়ে থাকবেন, জবাবে মেয়র তাদের বলেছেন, ‌তোমরা টাকা পাবা অন্য জায়গায় গিয়ে থাকবা।

তবে স্থানীয়রা নিজেদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছাড়তে চান না। ওই এলাকার বাসিন্দা মো. দুলাল বলেন, উন্নয়নকাজের ব্যত্যয় হোক, তা আমরা চাই না। আমরা চাই, আমাদের ওই এলাকায় রেখেই যাতে উন্নয়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত কবি নির্মলেন্দু গুণের। অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। তবে ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এ প্রকল্প মানুষের মধ্যে আশার চেয়ে ভীতির সঞ্চার করছে বেশি। জনগণের উপকার না দেখে প্রকল্প নেয়া হলে কামরাঙ্গীরচরের মানুষ রুখে দাঁড়াবে। আমিও সে আন্দোলনে যুক্ত থাকব।

প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে জনস্বার্থবিরোধী এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে দাবি করে প্রকল্প গ্রহণকারীদের সেখান থেকে সরে আসার আহ্বান জানান নির্মলেন্দু গুণ।

প্রকল্পটি অন্য এলাকায় বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়ে ফারুক হোসেন নামে অপর এক বাসিন্দা বলেন, আমরা যেমন সোজা ভাষায় কথা বলতে পারি, আবার বাঁকাও হতে পারি।

অনুষ্ঠানে কামরাঙ্গীরচরের ভূমি মালিকরা রাজউকের ভবন নির্মাণ অনুমোদন আবারো চালুর দাবি জানান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব এস এম মাওলা রেজা। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কামরাঙ্গীরচর নাগরিক পরিষদের সমন্বয়ক হাসান আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মো. ফারুক হোসেন ও দুলাল হোসেন প্রমুখ।

Daily Frontier News