আলমগীর হোসেন বিজয়নগর প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
. “শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড” শিক্ষকতা একটা মহান পেশা, সেই পেশা যখন ব্যবসায় পরিণত হয় তখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবস্থা হবে নাজুক ও বিপর্যস্ত। সরকারের বিভিন্ন রকম পদক্ষেপে স্কুলের পাশে অথবা কোচিং, প্রাইভেট পড়ানোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসব নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে, ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো পাঠদান না করে, শিক্ষার গুণগতমান ফাঁকি দিয়ে চলছে ইচ্ছা মতো প্রাইভেট পড়ানো অথবা কোচিং করানোর নামে রমরমা ব্যবসা। কিছু সংখ্যক অসাধু শিক্ষক/শিক্ষিকার এমন আচরণে গন্তব্যে পৌঁছার আগেই নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান দারিদ্র্যতায় ও অতিরিক্ত ব্যয় বহনে ঝরে যায়।
. জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলায়, পাহাড়পুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস রুমে শিক্ষকের ঘোষণা প্রাইভেট না পড়িলে, পরীক্ষায় ফেইল করে দিব।
. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, অত্র বিদ্যালয়ের বিফিইডি শিক্ষক আব্দুল বারী বিদ্যালয়ের ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীদের ঘোষণা দেয়, আমার কাছে প্রাইভেট না পড়িলে, ফেইল করে দিব। তিনি স্কুলের পাশে পরিত্যক্ত দোকান ভাড়া করে ৫-৭ টা বেঞ্চ বিছিয়ে ৩০-৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে প্রতিদিন বিকাল ৪ টায় ক্লাসে পর্যাপ্ত পাঠদান না করে, কোচিং সেন্টারে ক্লাস করেন।
শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমারা গরিব পরিবারের সন্তান, প্রয়োজন না থাকলেও বাধ্য হয়ে আমার প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।
. এমন অভিযোগের সত্যতার যাচাইয়ে মিডিয়া কর্মী গত ৩ই মার্চ (রবিবার) বিকাল ৪টায় বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছলে, অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বারি তার কোচিং সেন্টারে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে, তার কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে সাংবাদিককে থুপের মুখে ফেলেন। এমন আচরন তাৎক্ষণিক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক কে অবগত করানো হয়েছে।
. এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলী হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি মিডিয়া প্রতিনিধিকে বলেন, আমার কাছে এমন অভিযোগ আসছে, শিক্ষকরা নাকি ক্লাসে ঘোষণা দিয়েছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য, অন্যতায় তাদেরকে ফেইল করে দেওয়া হবে এবং তারা স্কুলের পাশে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পরিত্যক্ত দোকান ভাড়া করে কোচিং সেন্টারে পরিণত করেছেন। অন্য এক শিক্ষক শফিকুল ইসলাম তিনি ও নজরপুর এলাকায় কোচিং খুলেছেন। এ বিষয়ে আমি আগামী ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করব।
. এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিধন চন্দ্র সরকারের নিকট মিডিয়া প্রতিনিধি জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষক আব্দুল বারী কে বারণ করা হয়েছে।
. বিজয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আল মামুন বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি, আমি বিষয়টা খতিয়ে দেখছি। এমন হওয়া মোটেও কাম্য নয়। ঘটনা সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
. উক্ত বিষয়ে”আমার কাছে প্রাইভেট না পড়িলে পরীক্ষা ফেইল উক্তিকারী শিক্ষক আব্দুল বারী র নিকট সেল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আগে পড়াইতাম এখন পড়াই না । আমি পড়াইলে দোষ কিসের ? বিজয়নগর উপজেলায় অন্যান্য স্কুলের শিক্ষকরা কোচিং ক্লাসে পড়াইতেছে, তাদের কোন দোষ নাই । আমি পড়াইলে আমার দোষ কেন ? আমি যে সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়াই তাদের অভিভাবকরা আমার কাছে দরখাস্ত দিয়েছে তাদেরকে পড়ানোর জন্য । আপনি যা পারেন তা লিখেন পত্রিকায় , আমার কোন সমস্যা নাই ।
. সুশীল সমাজ মনে করেন, এমনিতেই বিজয় নগরের শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক। জ্ঞানী আর গুণী সংখ্যা বলতে গেলে প্রায় শুন্যের কোটায় ছুই ছুই, মেধাবীদের সংখ্যা ফাঁকা । শিক্ষকদের অসহনীয় ফাঁকি আর চলচাতুরি ও দৌরাত্ম্যের কারণে বিজয় নগরের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে ।শিক্ষকরা শিক্ষাকে ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যবসায় পরিণত করে ফেলছে। কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে দাবি রাখে ।
Copyright © 2025 Daily Frontier News | Design & Developed By: ZamZam Graphics