Daily Frontier News
Daily Frontier News

আগামীকাল ৪ মে বিশিষ্ট মার্কসবাদী অর্থনীতিবীদ ও জাসদনেতা অধ্যাপক ড. আখলাকুর রহমানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

ফ্রন্টিয়ার.নিউজ রিপোর্টঃ- 

.     অধ্যাপক ড. আখলাকুর রহমান বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি ১৯২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঠশালা, আধুনিক স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখা করেন। তিনি ১৯৪২ সালে হবিগঞ্জ বালাগঞ্জ স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। মোদনমোহন কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময় ১৯৪৪ সালে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন সর্বভারতীয় ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সর্বভারতীয় ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য হিসাবেই তিনি মার্কসবাদী বিশ্ববীক্ষা এবং সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের প্রতি আকর্ষিত হন। তিনি ১৯৪৩ সালে সিলেট মদনমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ১৯৪৫ সালে আলীগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ-তে ভর্তি হন এবং ১৯৪৭ সালে সেখান থেকে বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে এমএ-তে ভর্তি হন। তিনি এমএ পাস করে একই বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। দুই বছর প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করে ইংল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারে রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট হিসাবে যোগ দেন। এরপর তিনি পাকিস্তানের পেশোয়ার ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। তিনি পাকিস্তানের ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনোমিক্সের সিনিয়র ইকোনোমিস্ট হিসাবেই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি পাকিস্তান ইকোনমিক এসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তান ইকোনমিক জার্ণালের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের ইউনাইটেড ব্যাংক লি: এর এডভাইজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পূর্ব বাংলার উপর পাকিস্তানি উপনিবেশিক শোষন ও বঞ্চনার উপর গবেষনা করে অন্যান্য বাঙালি অর্থনীতিবীদদের সাথে ‘এক দেশ, দুই অর্থনীতি’ তত্ত্ব বিনির্মানে ভূমিকা রাখেন এবং পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে আটকে পরলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আটকে বাঙালিদের জন্য কাজ করেন। স্বাধীন দেশে ফিরে এসে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। তিনি স্বাধীন দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা, উৎপাদন পদ্ধতি, উৎপাদন সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর গবেষনা করে দেখান বাংলাদেশের কৃষিতে ধণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিচালিত হচ্ছে। তার এই গবেষনাই ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে ধণতন্ত্রের বিকাশ’ নামে পুস্তিকাকারে প্রকাশিত হয়। তার এই গবেষনা ও বইটি দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার সূত্রপাত করে। উৎপাদন পদ্ধতির ধরণ ও উৎপাদন সম্পর্কের ধরণের ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক সাম্যবাদী আন্দোলনের শক্তি ও পার্টিসমূহ তাদের প্রধান রণনীতি ও রণকৌশল নির্ধারণ করে থাকে। ১৯৭২ সালে সদ্য গঠিত সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল জাসদ অধ্যাপক ড. আখলাকুর রহমানে কৃষিতে ধণতন্ত্রের বিকাশ তত্ত্বকে সঠিক বিশ্লেষণ হিসাবে গ্রহণ করে এবং তার সাথে রাজনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে। এই যোগাযোগ ও বোঝাপড়া ভিত্তিতেই ড. আখলাক জাসদ রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পরেন। ১৯৭২-৭৩-৭৪ সালে তিনি জাসদের প্রধান তাত্তিক ও শিক্ষকে উন্নীত হন। তিনি এ সময়কালে জাসদের সকল পাঠচক্রের মূল আলোচক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সিরাজুল আলম খানের পরেই দলের প্রভাবশালী নেতায় উন্নীত হন। ড. আখলাক ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহ-সিপাহী জনতার অভ্যত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৯২ সালের ৪ ঠা মে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত তৎকালীন জাসদ(ইনু)-এর সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন।

জাসদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি
দলের এই প্রয়াত নেতাকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে জাসদ আগামীকাল ৪ মে শনিবার বিকাল ৫টায় দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন কর্নেল তাহের মিলনায়তনে স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Daily Frontier News