Daily Frontier News
Daily Frontier News

ওসমানীনগরে লন্ডন প্রবাসী বাবা-ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু, অচেতন স্ত্রীসহ আরো ২ ছেলে-মেয়ে

 

 

কে এম রায়হান::-

 

ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী পিতা-পুত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ গুরুতর আহত অবস্থায় একই পরিবারের আরো ৩জনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
মৃতরা হলেন,উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বড় ধিরারাই গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫৫) ও ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৬)। আহতরা হলেন, স্ত্রী হুসনে আরা বেগম (৫০), ছেলে ছাদিকুল ইসলাম (২২)ও মেয়ে সামিয়া বেগম (২০)। আহতদের মধ্যে ২জনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা, এএসপি সার্কেল রফিকুল ইসলাম, ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাইন উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, আজ ২৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার তাজপুর ইউয়িনের রবিদাসস্থ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অরুনোদয় পাল ঝলকের বাসায় ভাড়াটিয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলামের কক্ষের দরজায় সকালের নাস্তার জন্য তার আত্মীয়রা কড়া নাড়েন। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে সাড়ে দশটার দিকে তারা স্থানীয় পুলিশে খবর দেন। পুলিশ বাসায় গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে একই কক্ষের ভিতর রফিকুল ইসলাম, স্ত্রী হুসনে আরা বেগম, ছেলে ছাদিকুল ইসলাম, মাইকুল ইসলাম ও মেয়ে সামিয়াকে এলোমেলো অবস্থায় একজনের উপরে আরেকজন অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিক তাদেরকে নিকটস্থ একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে পিতা রফিকুল ইসলাম ও ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় আরো ২জনকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানাস্তর করেন। ধারণা করা হচ্ছে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে।মৃতের ভায়েরা ভাই সাজ্জাদুর রহমান (৪৮) জানান, বাড়িতে থাকার ঘর না থাকায় চলতি মাসের ১৮ তারিখে প্রবাসী রফিকুল ইসলাম পরিবার নিয়ে রবিদাসস্থ বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেন। এর আগে তারা ঢাকায় বড় ছেলে ছাদিকুল ইসলামের চিকিৎসা করান। তাদের কারো সাথে কোন শত্রুতা নেই। গতরাতে পাশের কক্ষে তাদের সাথে তার শ্বশুর আনফর আলী, শ্বাশুরী, শ্যালক দিলোয়ার হোসেন (৩২) শ্যালকের স্ত্রী সুবা বেগম, মেয়ে সাবিলা ছিলেন। সকালে শ্বশুর আনফর আলী বাড়িতে গিয়ে তার আরেক মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যান। তিনি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাসায় এসেছেন।
স্থানীয় চেয়ারম্যান অরুনোদয় পাল ঝলক জানান, আমি আইন শৃংখলা কমিটির মিটিংয়ে ছিলাম। খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে বাসায় এসে দরজা ভেঙেগ তাদের অচেতন দেখতে পাই।সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বলেন, একই বাসায় এক কক্ষে প্রবাসী ৫জন অচেতন ছিলেন। বাকি ২কক্ষে তাদের পরিবারের লোকজন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে বিষক্রিয়ায় তাদের মুত্যু হতে পারে। পিবিআইয়ের লোকজন আসবে। আহতদের জ্ঞান ফিরলে এবং পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।

Daily Frontier News