মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ।
শীতের শিশির ভেজা সকালে কুয়াশার চাদরে ঘেরা বিস্তীর্ন প্রতিটি মাঠ যেন হলুদ বর্ণে ঘেরা এক স্বপ্নিল পৃথিবী।
সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুলে শীতের সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করছে। এ যেন এক অপরুপ সৌন্দর্য প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি। যেদিকে তাকায় শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের চোখ ধাঁ-ধাঁলো বর্ণীল সমরাহ। এদিকে সরিষা হলুদ ফুলের ছবি তুলতে দেখা গেছে শিশু সহ নানান বয়সী নারী-পুরুষদের। মৌমাছির গুনগুন শব্দে শরিষা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পন এ অপরুপ প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই যেন মনো মুগ্ধকর এক মূহুর্ত।
ভোরের বিন্দু বিন্দু শিশির আর সকালের মিষ্টি রোদ ছুঁয়ে যায় সেই ফুলগুলোকে। ভালো ফলনের আশায় উপজেলার কৃষকেরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও।
গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা এই সরিষা যথা সময়ে ঘরে তুলতে পাড়লে এবং বিক্রয় মূল্য ভাল পেলে ইরি-বোরো ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সরিষা তে পোকা-মাকড়ের আনাগোনা দেখা না দিলেও মাঠ পর্যায়ে সরিষা চাষিদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্য কারিগরী সহযোগিতা করার কারণে সরিষা তে অনেকটা রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। সরকারী পর্যায় থেকে কৃষকদের মাঝে মান সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে সরিষার বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করার ফলে কৃষকের মাঝে সরিষা চাষের আগ্রহ বেড়েছে। শিকারপুর গ্রামের সাগর জানান, আমি এবছর ৪বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে কিছু বীজ পেলেও আমি নিজে বাঁকিটা কিনে জমিতে বোপন করেছি। সরিষা গাছে প্রচুর পরিমানে ফুল ধরায় মনে হচ্ছে এবার সরিষার আশানুরুপ ফলন পাব।
Copyright © 2025 Daily Frontier News | Design & Developed By: ZamZam Graphics