Daily Frontier News
Daily Frontier News

👉 সব বাবার লিলা খেলা🎅

 

আজকে আপনাদের একটা মজার গল্প শোনাই ……

মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং।।

পাসপোর্ট অফিসে গেলাম একটা জরুরি পাসপোর্ট করার জন্য। জিজ্ঞেস করলাম কত দিন লাগবে। বললেন সাধারনত ১২ দিনে পাওয়ার কথা। তবে এখন বই সংকট। ১ মাসও লাগতে পারে।
মন খারাপ করে বাইরে চলে এলাম। অমনি এক দরবেশ বাবা ডাক দিলো- হে বৎস, মন খারাপ করে কোথায় যাচ্ছিস? তোর কি লাগবে আমাকে বল। বললাম, বাবা আমার জরুরী পাসপোর্ট দরকার। কিন্তু উনারা বলছে ১ মাসও লাগতে পারে।
হক মাওলা, দেখি তোর কাগজপত্র গুলো। তারপর দরবেশ বাবা আমার কাগজ গুলো নিয়ে ফচাৎ করে ছিড়ে ফেললেন। তারপর নতুন ফরম দিয়ে বললেন এটা পুরণ কর। বললাম, বাবা আমিতো অরজিনাল কুমিল্লার রসমালাইয়ের মতো খাঁটি ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড কর্মকর্তা দিয়ে সত্যায়িত করে এনেছিলাম। এখন আবার গেজেটেড কর্মকর্তা পাবো কোথায়?
বাবা বললেন, আমার চেয়ে বড় কর্মকর্তা আর কে আছে রে এই জগতে? তুই পূরণ কর। সত্যায়িত আমি করবো। ফরম পূরণ করে বাবার হাতে দিলাম। বাবা বললেন হাদিয়া দিয়ে ছবি তুলে তুই যাগা। ঠিক ৪ দিন পর তোকে স্বপ্নে কল দেবো। এসে বই নিয়ে যাবি।
বলেন কি বাবা, মাত্র ৪ দিন! এ কি করে সম্ভব! সত্যি করে বলেন বাবা, আপনি মানুষ নাকি জীবন্ত ওলি? পাসপোর্ট অফিসের লোকজন বলে ১ মাস লাগবে। আর সরকারি নিয়মে ১২ দিনের নিচে কোন ভাবেই বই পাওয়া যায় না, কিন্তু আপনি ৪ দিনে কিভাবে দেবেন?
এসব তুই বুঝবি নারে, সব উপরওয়ালার লীলা খেলা। তারাতারি টাকাটা দে, উপরওয়ালাকে দিয়ে আসি।
৬.৫ হাজার সরকারি ফি। আর বাবার হাদিয়া ৮ হাজার। মোট ১৪.৫ হাজার টাকা দিলাম। বাবা কাগজগুলো নিয়ে উপরওয়ালার কাছে চলে গেলেন। এই টাকার ভাগ বাবা একা নেবেন না। ভাগ পাবেন বাবা, তার বাবা, তার বাবা পর্যন্ত। বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, পুলিশ বাড়িতে যাবে না ভেরীফিকেশন করতে?
বাবা বললেন তুইতো ভারী বোকা লোকরে। পুলিশের দুই চোখে দুইটা কচকচে নোট নিয়ে চাপ দিয়ে একটা ফু দেবো, অমনি তোর বাড়ি ঘর সব স্বপ্নে ভেরীফিকেশন করে ফেলবে। সব উপরওয়ালার লীলা খেলা রে… হক মাওলা।
ঠিক চার ওয়ার্কিং ডে এর পর আজকে বাবা কল দিলেন। আয় বৎস পাসপোর্ট নিয়ে যা। আজকে ২৩ শে মার্চ, অথচ ডেলিভারী স্লিপে লিখা ডেলিভারী ডেট ২৭ শে মার্চ
সত্যি দরবেশ বাবার হেকমত বড় কড়া, আমি বাবার চরন দুটিতে লুটিয়ে পড়লাম। বাবা আপনিই সেরা, আপনার পদধুলি দেন।
হাসপাতাল, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস,ভূমি অফিস সহ সরকারী সব প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এমন অনেক দরবেশ বাবা দলে দলে বসে জিকির আসগারে মত্ত আছেন। উপরওয়ালার সাথে উনাদের ডাইরেক্ট কানেকশন।

Daily Frontier News