Daily Frontier News
Daily Frontier News

নরসিংদীর রাজনীতিতে লাঠিয়াল বাহিনীর দাপট দেখার কেউ নেই ?

 

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সম্প্রতি শিবপুর উপজেলা পরিষদের
চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ খান গুলিবিদ্ধ হয়েছে , খুন হয়েছেন মির্জাচরের চেয়ারম্যান মানিক, রক্তাক্ত জখম হয়েছেন সাধার চরের মেম্বার, রক্তাক্ত জখম হয়েছেন পুটিয়া ত্রিমোহনীর মামুন খন্দকার মহিলা সহ পাঁচজন। আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়, , এর রেশ না কাটতেই উত্তপ্ত নরসিংদী। এবার সন্ত্রাসীদের হিট লিষ্টে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, সাবেক এমপি, খায়রুল কবীর খোকন ।
আতঙ্কে ত্যাগী ও প্রবীণ নেতারা,
সম্প্রতি এই নোংরা ও অপরাজনীতির শিকার হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন
শিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ খান। জানা গেছে, হারুন অর রশিদ খানকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার আগে ঢাকায় শিবপুরের এক বিদ্রোহী নেতার অফিসে আরিফ সরকার সহ কিলাররা গোপন মিটিং করেন। ঐ মিটিং এর পর পরিকল্পনা মাফিক হারুন অর রশিদ খানকে হত্যা করতে যান কিন্তু তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান ।
শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, মিলন হত্যা ও হারুন খান কে হত্যার চেষ্টা একই সুঁত্রে গাথা । নরসিংদী জেলা বিএনপিতে ও লাঠিয়াল বাহিনীর দৌরাত্ম চলছে। ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে চলছে সহিংসতা ।
শিবপুর ইটাখোলা মোড়ে খায়রুল কবির খোকন কে হত্যার করার জন্য হামলা চালিয়ে তার গাড়ি ভাঙচুর করে দলীয় সন্ত্রাসীরা। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণে বাঁচতে সেদিন ফাঁকা ফায়ার করতে হয় খোকনকে। এই ঘটনায় হামলাকারীরা বাদী হয়ে খোকনসহ বিএনপির প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে। অথচ খোকনের অভিযোগ আমলে নেয়নি পুলিশ। নরসিংদী জেলা জোড়ে আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হয়েছে , বিএনপিতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা চলছে,
ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দাপটে প্রাণের ভয়ে থাকতে হচ্ছে দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের। এই সন্ত্রাসীদের লালন করছে
অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ
ও অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কিছু নেতা।
লুটপাট আর ব্যক্তিগত প্রভাব টিকিয়ে রাখতে রাজনীতিকরা পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সন্ত্রাসীদের ক্ষমতা আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে প্রাণে মেরে ফেলতেও
দ্বিধা করছে না। ফলে জেলার রাজনীতি থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আদর্শ। ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি শ্রেণি। সন্ত্রাস নির্ভর এ রাজনীতিতে সুযোগ নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। দিন দিন অবৈধ অস্ত্রধারীও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে এ জেলা। ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এমন অপরাজনীতিতে হতাশ জেলার সাধারণ মানুষও। নরসিংদীর রাজনীতিতে সন্ত্রাসীদের এ ঘটনার দিনই ইটাখোলার শান্তি সমাবেশে নরসিংদী শিবপুরের এমপি জহিল হল ভূঞা মোহন ওসি ফিরোজ তালুকদারকে আরও সতর্ক হয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার
পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, শিবপুরে কখনোই এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এসবের আর পুনরাবৃত্তি চাই না। তিনি আরো বলেন, শিবপুরের আইন-শৃঙ্খলা ব্যাপক অবনতি, আমি শিবপুরের শান্তি চাই। অথচ পুলিশ সেদিন রাতেই খোকনের অভিযোগ আমলে নেয়নি।
অথচ হামলাকারীর অভিযোগ আমলে নিয়ে খায়রুল কবির খোকন ও আবুল হারিছ রিকাবদারসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়।
এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হিসেবে চিহ্নিত নরসিংদী জেলা বিএনপির বিতর্কিত সদস্য সচিব মনজুর এলাহী কালো টাকা দিয়ে এখন রাজনীতি ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছে শিবপুর ও নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যার সঙ্গে জড়িত কিলার গ্রুপের সঙ্গে রয়েছে এই নেতার নিদারুণ সখ্য। রাজনীতি তাদের পেশা না হলেও
ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার জন্য নিজ দলের লাঠিয়াল বাহিনীদেরকে ব্যবহার করছে । ব্যবসায়িক এই নেতা জেলাজুড়ে রাজনীতির নামে এক অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী, বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জননেতা খায়রুল কবির খোকনের কিছু হলে সরাসরি মনজুর এলাহীর দায়ী থাকবেন বলেও অভিযোগ
করেন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ । এ ব্যাপারে সাবেক এমপি জননেতা খায়রুল কবির খোকন বলেন, আপনারা সবই জানেন কারা আমার অফিসে আগুন দিয়েছে এবং নেতাকর্মীদের মারধর করছে, পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দিয়েছে, এবং আমি কোর্টে হাজিরা দিতে আসলে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আমাকে হত্যার চেষ্টা করে,অপরদিকে শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় ব্যাপক উত্তাপ ছড়ায় নেতাকর্মীরা। একে অপরের বিরুদ্ধে তর্কে জড়িয়ে যায়, বর্তমানে শিবপুর উপজেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, যে কোন সময় আরো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে পারে । আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয় অগ্নিসংযোগের মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা গ্রেপ্তার হলে আরো বিতর্ক সৃষ্টি হয় । ২ নং আসামী হয়েছেন পুটিয়া বাজারের ইজারাদার খোরশেদ হাজী। তিনিও একজন বিএনপি জামাতের পৃষ্ঠপোষক, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ । নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগে চলছে কোন্দল , একটি গ্রুপ রয়েছে জিএম তালেব এর নেতৃত্বে, আরেকটি গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছে সাবেক মন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরো, আরেকটি সাবেক মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল । মনোহরদী ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবি, জেলা পরিষদে ভরাডুবি, সদরে দুইটি ইউনিয়নে নৌকার জামানত বাজেআপ্ত হওয়ায় বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা চলছে । অপরদিকে চাঙ্গা ও ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু । বর্তমানে টপ অফ দা টাউন হারুন অর রশিদ খান কে হত্যা করতে বিদ্রোহ এক নেতার ঢাকার অফিসে বসে পরিকল্পনা করেন । নরসিংদী শিবপুরের আইনশৃঙ্খলা অবনতি এ যেন দেখার কেউ নেই ?

Daily Frontier News