Daily Frontier News
Daily Frontier News

তালায় কোরআন তেলোয়াত ও গীতা পাঠ বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষকদের বিক্ষোভ: শিক্ষা কর্মকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা

 

 

শাহীন বিশ্বাস সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।

 

তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে কারিকুলা রুপরেখা ২০২৩ বাস্তবায়নে অংশগ্রহনকারী
শিক্ষকরা। প্রশিক্ষন বন্ধ রেখে বিক্ষুব্দ শিক্ষকরা ওই শিক্ষা কর্মকর্তার
বিরুদ্ধে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও তার অপসারনে জন্য নানা ধরনের স্লোগান
দিয়েছে। পরে এক পর্যায় তালা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হয়ে
ক্ষমা প্রর্থনা করলে পরিস্তিতি শান্ত হয় এবং বিকেল সাড়ে ৩ টায় শিক্ষকরা
পুনরায় প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহন করে।
শনিবার দুপুর ১ টায় কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের
নতুন পাঠ্যসুচির সাথে অবিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অনুষ্ঠিত কারিকুলাম
প্রশিক্ষনে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাজায়, গত ৬ জানুয়ারী থেকে তালা উপজেলার ৮৫৬ জন
শিক্ষকদের নিয়ে কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কারিকুলামের উপর
শিক্ষক প্রশিক্ষন কর্মশালা শুরু হয় ।

ওই দিন স্কুলের রাশিদা রহমান ভবনের ১০২ নম্বর কক্ষে তথ্য যোগাযোগ
প্রযুক্তি আইসিটি বিষয়ে শিক্ষকদের উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রশিক্ষক মো: রিপন
হোসেন এর আহবানে শুরুতে মানিকহার মাদ্রসার সহকারী শিক্ষক মো: খায়রুল
ইসলামকে কোরআন তেলোওয়াত করতে বলেন। এসময় সুজনশাহা মাধ্যমিক বালিকা
বিদ্যালয়ের অপর সহকারী শিক্ষক স্বপ্না দাশকে গীতা পাঠ করার জন্য প্রস্তুত
থাকতে বলেন। শিক্ষক মোঃ খায়রুল ইসলাম কোরআন তেলোয়াত শুরু করলে হন্তদন্ত
হয়ে তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিয়ার রহমান ওই কক্ষে
উপস্থিত হয়ে কেন কোরআন তেলোয়াত ও গীতা পাঠ করা হচ্ছে এজন্য প্রশিক্ষক
রিপনসহ অন্যদের ধমক দেন এবং উত্তেজিত হয়ে ড়–ড় ভাষায় কোরান তেলওয়াত বন্ধ
করতে বলেন। এঘটনায় প্রশিক্ষনে অংশগ্রহনকারী শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ও
বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। শিক্ষা কর্মকর্তার এমন আচারনের বিষয়টি
অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রশিক্ষনের
চতুর্থদিনে শনিবার (১৪ জানুয়ারী) দুপুর ১ টার সময় অংশ গ্রহনকারী শিক্ষকরা
প্রশিক্ষন ছেড়ে কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে
বিক্ষোভ করে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেয় এবং
তার অপসারণ দাবি করেন। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিয়ার
রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রর্থনা করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক সজিবুদৌল্লার শিক্ষকদেও
প্রশিক্ষন কক্ষে ফিওে যাওয়ার অনুরোধ করলে শিক্ষকরা পুনরায় বিকেল সাড়ে ৩
টায় প্রশিক্ষনে অংশ নেন।

এসময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আতিয়ার
রহমান, তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জগদিশ হালদার, সাধারন
সম্পাদক সজিব উদৌল্লাহ ও কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ১০২ নম্বর কক্ষে উপস্থিত হন।

এসময় কোরআন তেলওয়াতকারী শিক্ষক খায়রুল ইসলাম তার বক্তবে মাধ্যমিক শিক্ষা
কর্মকর্তাকে বলেন স্যার ওই দিনের পর থেকে জাতীয় সঙ্গীত,কোরআন পাঠ,গীতা
পাঠ কিছুই হয়না। যে কোন কারনে হয়ত আপনার ভূল হয়েছে। হাইলোডে কোরআন
তেলওয়াত বন্ধ করা আপনার ভূল হয়েছে। আপনার অনুতপ্ত ও ভূল স্বীকার করা
উচিত। এসময় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি শিক্ষা কর্মকর্তার
পক্ষ থেকে অনুতপ্ত হন ও ভূল স্বীকার করেন।

এবিষয়ে তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আতিয়ার রহমান বলেন,
শিক্ষকদের কারিকুলামের উপর উপজেলার ৮৫৬ জন মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
প্রথম দিনে আইসিটি’র প্রশিক্ষণ কক্ষে ভুলবোঝি হয় শিক্ষকদের সাথে।
হঠাৎ শিক্ষকরা কেন বিক্ষোভ করলেন সেটা আমার জানা ছিল না। তবে
বিষয়টি নিয়ে ভুলবোঝা বুঝির অবসান হয়েছে।

তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জগদিশ হালদার ও সাধারন
সম্পাদক সজিব-উদ-দৌল্লাহ জানান, প্রশিক্ষনের প্রথম দিনে কোরআন তেলাওয়াত ও
গীতা পাঠ নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আচরনে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের
সষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সাধারন শিক্ষকরা বিক্ষোভ করলে শিক্ষা কর্মকর্তা
ঘটনাস্থলে এসে দু:খ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রর্থনা করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। #

Daily Frontier News