বিশেষ প্রতিনিধি।।
মাত্র দু’ঘন্টা বাড়ি ছিলেন না ছাগলনাইয়ার ঘোপাল ইউনিয়নের দৌলতপুর (ছয়ঘরিয়া) গ্রামের বাসিন্দা রৌশন আরা আক্তার আখি। ঘর তালা মেরে বুধবার এক আত্মীয়ের বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বাড়ি (নজরুল কটেজ) ফিরে দেখেন তাঁদের ঘরের দরজার তালা ভেঙে চুরি হয়েছে টাকা-সহ কয়েক ভরি গয়না।
এ দৃশ্য দেখেই তিনি জ্ঞান হারান। তার শিশু সন্তানদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাতেই প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি ফেরেন তিনি। এখনও কাটেনি তার শারিরীক দুর্বলতা।
আখি দৌলতপুর (ছয়ঘরিয়া) গ্রামের বাদশা মিয়া মাঝি বাড়ির প্রবাসী নজরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি নতুন বাড়িতে বসবাস করছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন,’ আমার ননদে বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে শুভপুর গিয়েছিলাম। ননদ হুজুর দাওয়াত দিয়েছিলেন। তার অনুরোধে ঘরে তালা মেরে আমি ওই বাড়িতে যাই। ইফতারের কিছুক্ষণ পর আমি বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দেই। বাড়ি এসে দেখি আমার ঘরের দরজা খোলা। তালা ভাঙা পড়ে আছে। আলমারি ও ওয়ারড্রবের মালামাল তছনছ। আলমারিতে রাখা আমার প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৩০ হাজার টাকা নেই। আমি এ দৃশ্য দেখে নিজেকে স্থীর রাখতে পারেনি। আমি মেঝেতে পড়ে যাই। এরপর আমার কি হয়েছে আমি কিছুই বলতে পারবো না। চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালে।’
তবে চুরির ঘটনায় তিনি কাউকে সন্দেহ না করলেও বলছেন, তাকে টার্গেট করে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
আখির চাচা উত্তর কুহুমা গ্রামের আবদুল কাদের ফরায়েজী বলেন, ‘ আমার ভাতিজির বাড়ির পাশে ঘোপাল তদন্তকেন্দ্র পুলিশ এবং ইউনিয়ন পরিষদ। রাস্তার পাশে বাড়ি। চারপাশে ঘনবসতি। ইফতারের সময় বাড়ির দেয়াল টপকে ঢুকে দুর্ধর্ষ চুরি! এভাবে হলে তো এলাকায় মানুষ বসবাস করতে পারবেনা। স্থানীয় লোকের কানেকশন না থাকলে এধরনের চুরি সম্ভব না।’
তিনি চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ঘোপাল তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম।
চেয়ারম্যান বলেন,’ চুরির খবর পেয়ে পুলিশ, ইউপি সদস্য সহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কি কি চুরি হয়েছে সঠিক বলতে পারছিনা। কারন ওই মহিলা বাড়ি ফিরে অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পুলিশের পাশাপাশি আমরাও বিষয় টা খোঁজ নিচ্ছি। তবে মানুষকেও সচেতন হতে হবে। ‘
ঘোপাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মুকবুল হোসেন বলেন ” আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারপরও আমাদের কাজ চলছে। এখনও কেউ আটক হয়নি।”
Copyright © 2026 Daily Frontier News | Design & Developed By: ZamZam Graphics