Daily Frontier News
Daily Frontier News

চুনারুঘাটে স্বামী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করার অপরাধে ৭ মাস ধরে ঘরে তালা দিয়ে সমাজচ্যুত নারী

 

 

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ

 

চুনারুঘাটের আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের খাসপাড়া গ্রামে স্বামী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করার অপরাধে ৭ মাস ধরে তার বসত ঘরে তালা দিয়ে সমাজচ্যুত করেছে গ্রামের মাতবর রা।

গতকাল নির্যাতিত মহিলা হামিদা আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে ঘটনার বিবরণ করেন।

সমাজচ্যুত হামিদা বলেন, তার প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর এলাকার কিছু খারাপ চরিত্রের লোক তাকে কুপ্রস্তাব দিত।তাই তিনি বাদ্য হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।বিয়ে করার অপরাধে খাসপাড়া গ্রামের মুরুব্বী ঈমান আলী,ফালান মিয়া,জালাল মিয়া ও সিরাজ মিয়া সহ ১৫/২০ জন মাতবর মিলে তার বসত ঘরে তালা দেন। ৭ মাস ধরে তালাবদ্ধ ঘরের লক্ষ টাকার আসবা পত্র ঝড়াজীর্ণ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।আচ্যর্যজনক বিষয় হল তার ২টা শিশু বাচ্চা রুটি খাইতে বসছিল কিন্তু সমাজপ্রতিরা শিশুদের কে ১ টুকরো রুটি ক্ষেতে দেয়নি।ঘর থেকে বের করে তালাবদ্ধ করে দেয়।দীর্ঘ সাতমাসে তারা অন্যত্রে বসববাস করছে এবং স্বামী স্ত্রী মিলে আমু চা বাগানের পুলপাড়ে একটি চা স্টল দিয়ে জীবন যাপন করছে।

এ ব্যাপারে হামিদার আপন বোন জ্যোসনা আক্তার বলেন,গ্রামের মুরুব্বীয়ানরা ডাকলে হামিদা আসেনি তাই ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তার ঘরে তালা মারা হয়েছে।

প্রতিবেশি সফিক মিয়া বলেন,মুরুব্বী ঈমান আলী ঘরে তালা দিয়েছেন, তাই সেই তালা তিনি ছাড়া কেউ খুলার সাহস রাখেন না।

স্থানীয় আহম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ বলেন,ঘটনাটি তিনি জানেন না। তবে যারা অতি উৎসাহী হয়ে এমন নেক্কার জনক কাজ করেছেন তা আইন বিরোধী।অন্যায় করলে বিচার আছে, প্রচলিত আইন আছে।ঘরে তালা মেরে অসহায় মহিলা ও বাচ্চাদের বের করে দেয়া কোন ভাবেই ঠিক হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চুনারুঘাট থানার ওসি মোঃ আলী আশরাফ এর সরকারী মোবাইলে ফোন দিলে তিনি কল ধরেন নি।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন,বিষয়টি তিনি আজই জেনেছেন এবং আগামীকাল ব্যবস্থা নিবেন।

চুনারুঘাট প্রেসক্লাব সভাপতি জামাল হোসেন লিটন ঘটনার বিবরণ শুনে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টিকার্ষন কামনা করেন।

অভিযুক্ত গ্রামের মুরুব্বী ঈমান আলী সহ কয়েকজন হামিদার ঘরে তালা বন্ধ করার কথা স্বীকার করে বলেন,তারা গ্রাম বাসী একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে এ কাজ করেছেন।

অসহায় হামিদার কান্না শুনে তার বাসস্থান উম্মুক্ত করে স্বাধীন ভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করলেই হলো।

Daily Frontier News