Daily Frontier News
Daily Frontier News

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে ঘুষ বানিজ্য,পাহাড়সম অভিযোগের পরেও বহাল তবিয়তে জেল সুপার

 

 

এসএম রুবেল,
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

 

মাগো বড় কষ্টে আছি জেলখানারি ঘরে তোর লাইগা মনটা আমার কাইন্দা কাইন্দা মরে কবি নিরব এ যেন অন্য জগত,দেখভালের খবর কর্তৃপক্ষের নজর,নজর বিহীন ভূমিকায় নীরবতাই চলছে ব্রিটিশ পিরিয়ডের গড়া চারিদিকে লোহার শিকল এরই নাম পালিশ অফ দা প্রাচীন যুগের নাম শুনলেই গা শিউরে ওঠে অপরাধীদের আতঙ্কের স্থান কারাগার।

“রাখিব নিরাপদ,দেখাব আলোর পথ” চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের এই স্লোগান শুধু দেয়ালেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়,দুর্নীতি যেন এ কারাগারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। বন্দীদের নির্যাতন,সাক্ষাৎ-বাণিজ্য, সিট-বাণিজ্য,খাবার বাণিজ্য, চিকিৎসা-বাণিজ্য এবং জামিন-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং কারারক্ষীদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগে উঠেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র বহুু দিন যাবত চার দেওয়ালের ভিতরেই আটকে রাখে কারা কর্মকর্তারা

ক্রাইম পেট্রোল অনুসন্ধানে জানা যায়,চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারা কর্তৃপক্ষ ঘুষের টাকা পরিবারের কাছ থেকে বিকাশে গ্রহণ করেন। বন্দীরা অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আমদানি কক্ষেই রেখে দেয়া হয়। এছাড়াও বন্দীদের দেয়া হয় মানহীন খাবার। এসব নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সঙ্গে কারারক্ষীসহ জেল সুপার সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়,কারাগারের নিয়ন্ত্রণে দুটি ক্যান্টিন রয়েছে। একটি কারাগারের ভেতরে,অন্যটি বাইরে। বাইরের ক্যান্টিনে কোন মূল্য তালিকা নেই। ভেতরের ক্যান্টিনের পরিবেশ অনুপযোগী। দুই ক্যান্টিনেই সিগারেট, কলা,বিস্কুট,কেক আপেলসহ অন্যান্য প্রতিটি পণ্যের দাম বেশি নেয়া হয় বন্দীদের পিসিতে ১ হাজার পাঠালে ২০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। অথচ রশিদে লেখা হয় ১ হাজার টাকা। ভেতরের ক্যান্টিনে ক্রয়কৃত মালামালের বিপরীতে মূল্য পিসি (প্রিজনার ক্যাশ) কার্ড থেকে কর্তন করা হয়। কোন পণ্যের নাম লেখা থাকে না বাইরের দ্রব্যমূল্যের দাম ও ভিতরের খাবার পুন্যের দাম আকাশ জমিন তফাৎ।

নির্ভরযোগ্য সূত্র ও জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসা একাধিক বন্দী জানিয়েছেন,কারাগারের প্রতিটি ওয়ার্ড ইজারা দেয়া হয়। ম্যাট,সিও ম্যাট,সিআইডি ম্যাট,পাহারাদার ও ওয়ার্ড রাইটার এসব ওয়ার্ড বরাদ্দ নিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট ইজারা মূল্য কারা কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে বাধ্য করে দেরি হলে চলে বিভিন্ন অজুহাতের জুলুম শুধু তাই নয় সামান্য অজুহাতে মারাত্মক আকার ধারন করা হয় বন্দীদের সাথে ডান্ডা বেড়ি,অ্যাড়া বেড়ি,দুই পায়ে পড়া হয় লোহার শিকল,উপায় নেই বন্দী রয়েছি মাগো জেলখানারি ঘরে তোরি জন্য মনটা আমার ক্যান্দা ক্যান্দা মরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়,জেল সুপার মজিবুর রহমান মজুমদার ও তার অপরাধ সিন্ডিকেটের এসব কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারের জেলার। তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় ৭ মাস জেলে থাকা সাংবাদিক এসএম রুবেল বলেন, জেলার অত্যান্ত ভালো মনের মানুষ। সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে দিতে আগ্রহী তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা জেল সুপারের এসব কর্মকান্ড থামাতে উদ্যোগ নিলেও খুব একটা সফল হতে পারেননি। এমনকি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গিয়ে জেল সুপার ও তার লোকজনের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। তথ্য রয়েছে,পূর্বে কর্মরত জেলার জেল সুপারের এসব কর্মকান্ডের বাধা দেখায় তাকে বিভিন্ন অযুহাতে বদলী করা হয়।

কারাগার সীমানার মধ্যে থাকা গাছের ফলে ও পতিত জায়গায় চাষাবাদ করা শাক-সবজি কারাগারে থাকা হাজতি ও কয়েদীদের জন্য বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও এখানে তা পরিপূর্ণ হয়না। এসব শাকসবজি জেল সুপার ও জমাদার,কারারক্ষীরা তাদের বাসায় নিয়ে গিয়ে ভোগ করেন। উল্টোদিকে,নিম্নমানের খাবার অনুপযোগী খাবার দেয়া হয় হাজতি ও কয়েদীদের মাঝে। এসব খাবারে দেয়া হইনা পরিমান মতো মসলা। ডাল দেয়া হয় পানির মতো পাতলা। সরকারি ফাইলের তরকারির দিকে তাকায় যায় না। আবার ভালো খাবার সেদিন হয় যেদিন কোন বড় কর্মকর্তারা জেল পরিদর্শনে আসে সেদিনই ভালো খাবারে দিকে চেয়ে থাকে অসহায় বন্দী হাজতীয় ও কয়েদিরা। হাজতি ও কয়েদিরা আলোচনায় ও দূয়া করতে থাকে যেন প্রতিদিন জেল পরিদর্শনে কর্মকর্তারা আসেন আসলে ভালো খাবার মিলবে এই অপেক্ষায়। কিন্তু প্রতিদিন তো পরিদর্শনে বড় কর্মকর্তারা আসেনা
তাই বাধ্য হয়েই হাতী ও কয়েদীরা তাদের পার্সোনাল রান্না করা পিসি ক্যান্টিন থেকে ভালো সামান্য উন্নত খাবার কিনে খায়। যার দাম বাজারমূল্য থেকে কয়েকগুন বেশি। কিন্তু নেই কোন উপায়। প্রতিবাদ করতে গেলে শিকার হতে হয় হামলা ও শারীরিক নির্যাতন,বেশি প্রতিবাদ করলেই ফজরের নামাজের পর একলা ওয়ার্ড থেকে বের করে চোখে কাপড় বেঁধে মুখে গামছা ভরে লাগাতাল পিটানো হয় এতে ভাঙ্গে চার থেকে পাঁচটা মোটা লাঠি নিরুপায় বন্দী রয়েছে মাগো জেলখানারি ঘরে।

সরেজমিনে দেখা যায়,প্রতিদিন সন্ধ্যায় কারাগারের সামনে জামিনপ্রাপ্ত আসামির স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। জামিনপ্রাপ্ত আসামির স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। বন্দীরা আদালত থেকে জামিনলাভ করলেও অর্থ প্রদান না করলে জামিননামা আটকিয়ে রেখে মুক্তি বিলম্বিত করা হয়। এর জন্য সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা দিতে হয় বড় মামলার আসামিদের অর্থাৎ হাইকোর্টের জামিন হলে খুশি অফিস স্টাফরা কারন মোটা টাকার পাটি পাওয়া গেছে আজ হাইকোর্টের জামিন এমনিতেই বহুদিন পর জামিনে মুক্তি পাচ্ছি গেটে বের হতে টাকা জা লাগবে দিতে বলছি আমার পরিবারকে কিন্তু আজকে রাতটুকু আটকে রাখিয়েন না স্যার প্লিজ।

অভিযোগ রয়েছে,বন্দীদের খাবার, স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ,কারাগারে ভালো স্থানে থাকার ব্যবস্থা- এ সবকিছু চলে টাকার বিনিময়ে। টাকার বিনিময়ে সোনা চোরাকারবারি ও মাদক কারবারিরাও কারাগারে বিলাসী জীবনযাপন করে। কারাগারকে বলা হয় সংশোধনাগার। সেখানে অপরাধীদের রাখা হয় কৃত অপরাধের সাজা প্রদানের পাশাপাশি সংশোধনের উদ্দেশ্যে। সেই কারাগারেই চলছে নানা ধরনের অপরাধকর্ম তবে মাদকমুক্ত কারাগার সাক্ষি এসএম রুবেল।

জেল সুপারের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট। অন্তত ৩-৪শ বন্দীর কাছে মাসে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড ভাড়া উত্তোলন করা হয়। অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বেড ভাড়ার নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কারা কর্তৃপক্ষের পকেটে যায়। বাকি টাকা ম্যাট, পাহারাদার ও ওয়ার্ড রাইটারদের মধ্যে ভাগাভাগি হয় তবে হাঁ আরেকটি রয়েছে কারাগারের ভিতরে কারা মেডিকেল,এখানে উন্নত পরিবারের জন্য তবে যে কেউ টাকা দিলে মাসিক ৬,থেকে ৭ হাজার টাকা মাসে লোহার বেডশীট ভাড়া দিয়ে থাকতে পারে ধারা য়েয়েছে শুধু কারা মেডিকেলে থাকবে অসুস্থ হাজতি ও কয়েদিরা কিন্তু অসুস্থ হলে স্বাদ মেটেগেছে মেডিকেলে যাওয়ার বাবা ৭ হাজার টাকা কোথায় পাবো সুপারকে দিবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের এক আইনজীবী জানান,আদালত থেকে আসামির জামিনাদেশ পাওয়ার পরও কারা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপণ করে থাকে। বিভিন্ন সময় দাড়ি-কমার সহ কাগজের তোমার নাম ভুল ধারা ভুল দেখিয়ে নানা অজুহাতে আসামি প্রতি এক,দুই হাজার টাকা দাবি করে। ঘুষের টাকা না দিলে মুক্তি দিতে টালবাহানা করে। প্রতিনিয়ত এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখিয়ে থাকে কারা কর্তৃপক্ষ নেতৃত্বে জেল সুপার।

জেল সুপার মুজিবুর রহমান মজুমদার জানান,এসব বক্তব্য তো ফোনে দেয়া যায় না। অফিসে আসেন তথ্য অধিকার আইনে যতটুকু সম্ভব তথ্য দেয়া দেয়া যাবে। অফিসে না যেতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমার কিছুই করতে পারবেন না। কারাগার এলাকায় পেলে খবর করে ছেড়ে দেবো আমি জেল সুপার টাকা দিয়ে চাকুরি নিয়েছি এমনিতেই জেল সুপার হইনি।

বাংলাদেশের কোথাও লকডাউন নেই, কিন্তু জেল খানায় আছে। লকডাউনের নামে জেলের ভেতরে চলেছে নিরব ঘুষ বানিয্য। স্বশ্রম কয়েদীদের গোপন ঘুষের বিনিময়ে মিলে ভালো কাজ। টাকা না দিলে তাদের দেওয়া হয় কষ্টের কাজে চলে যাও বাগান চালি মাটি কোপাও শরীরের ঘাম ঝরাও এসব নিয়ন্ত্রণ করে সকাল জমাদার ডিউটি শেষ করে বের হওয়ার সময় জমাদারের ইউনিফর্মের ভিতরে লুকিয়ে রেখে গোপনে গেট দিয়ে বের হয় সারাদিনের ইনকাম ১০ থেকে ১৫ প্যাকেট গোল্ড ডিফ আর বেনসন যা এক্সট্রা ইনকাম জমাদারের এটা আবার জেল সুপার জেনেও না জানে কারণ তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে আমিও একি ঘাটের চোর,ও বাবা গোপন চুক্তিতে বিক্রি হয় চিপ রাইটার,মানে বিশাল কিছু এর আবার জমাদারের মত ইনকাম,মেডিকেল রাইটার ক্যান্টিন রাইটার ইত্যাদি পদ তবে এসবে জড়িত থাকে দুই স্ত্রী নিয়ে সরকারি বেরাকে থাকা দাড়িওয়ালা ডিপুটি জেলার,ও সকাল জামাদার। ১৫ দিনে আসামির সাথে পরিবারের সাক্ষাৎ মাত্র ১০ মিনিট। এই নিয়ম করে অসহায় আসামিদের।করে মানষিক নির্যাতন। যাদের টাকা আছে তাদের টাকার বিনিময়ে চলে প্রতিদিন সাক্ষাৎ। সময় আনলিমিটেড আর কি বলবো ৭ মাস আমিও ভুক্তভোগী।

কারাগারের হাসপাতালে সুস্থ আসামির কাছে বেড বিক্রি করছে মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায়। এতে জড়িত ডাক্তার,ডিপুটি জেলার ও জেল সুপার। ভেতরের ওয়ার্ড পদ্মা১-২ ও যমুনা ৪ নম্বরে ও নেই কোন আধুনিক টয়লেট। টয়লেট নোংরা উঁচু টয়লেটের কারণে প্রতিদিন ঘটে দুর্ঘটনা। ভেতরে আগে সংগীত চালি থাকলেও বর্তমান জেল সুপারের কারণে তা বন্ধ আছে তবে ৬ তলা সরকারের দেওয়া নতুন বিল্ডিং ভবন হওয়াতেই অনেকটা শুয়ে থাকার স্বস্তি ও শান্তি ফিরে পেয়েছে কয়েদি ও হাজতিরা,বর্তমান ডিসি সাহেব কারাগারে একটি হারমনিয়াম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মৌলবাদী সুপার তা নিতে অনাগ্রহী। কেউ গান করলে তার উপর নেমে আসে অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন। রাজশাহী কারাগারে সুন্দর একটি সংগীত চালি আছে মন খারাপ হলে বাড়ির কথা মনে পড়লে এই চালিত গিয়ে আনন্দ উল্লাস করতে পারতো?… চাঁপাইনবাগঞ্জেও অতীতে ছিল। বর্তমানে এই জেল সুপারের কারনে তা বন্ধ আছে। যদিও কারাগার গুলো এখন সংশোধনাগার কিন্তু সংশোধন করার নেই কোন ব্যবস্থা।

বিস্তারিত আরো চাঞ্চল্যকর ও তথ্য নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের প্রতিবেদনে আসছি আমি এসএম রুবেল এই প্রতিবেদন আরো পড়বে চোখ না ফেরানোর প্রতিবেদন,ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার অশ্রুর প্রতিবেদন। বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক সরেজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এস এম রুবেল,তথ্য দিয়ে সঙ্গে থাকুন দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসুন মোবাইল নাম্বার ০১৭৫৬৯১১৯৪৬

Daily Frontier News