Daily Frontier News
Daily Frontier News

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমদ হোসাইনের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল বিতরণে মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি 

 

 

.     ঈদ উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা এই চালের প্রতি বস্তায় গড়ে দু-তিন কেজি করে কম দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আর তারাও খাদ্যগুদাম থেকে ওজনে কম পাওয়ার কথা জানিয়ে হতদরিদ্রদের মধ্যে এই চাল বিতরণের সময় ওজনে কম দিচ্ছেন, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হতদরিদ্ররা।

জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে নাঙ্গলকোট উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফ কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তারা পেয়েছেন ৮-৯ কেজি করে। চাল পাওয়া ব্যক্তিরা ওজনে কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, গুদাম থেকে চাল কম পেয়েছেন, তাই তাদের করার কিছুই নেই।

উপজেলার একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ভিজিএফের চালের প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা বা সরাসরি চেয়ারম্যানরা তাদের ইউপির অনুকূলে বরাদ্দ করা চাল তোলার জন্য বরাদ্দপত্র নিয়ে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমদ হোসাইনের কাছে যান। চাল দেওয়ার আগে তাদের কাছ থেকে বরাদ্দপত্র নিয়ে ওজনে শতভাগ আছে এমন একটি রিসিটে স্বাক্ষর নেন খাদ্য কর্মকর্তা হোসাইন। পরে গাড়িতে চাল তোলার আগে খাদ্যগুদামের শ্রমিকদের দিয়ে বস্তার মধ্যে হুক মেরে ছিদ্র করা হয়। ওই চালবোঝাই বস্তা মাথায় তুলে গাড়িতে নেওয়ার সময় হুকের ছিদ্রের ফাঁক দিয়ে দু-তিন কেজি চাল গুদামের মেঝেতে পড়ে যায়। চালবোঝাই গাড়ি গুদাম ছাড়ার পর মেঝেতে পড়া চাল অন্য বস্তায় ভরা হয়। এভাবে জমা হওয়া চাল সবশেষে খাদ্য কর্মকর্তা হোসাইনের নির্দেশনা অনুযায়ী বাইরে বিক্রি করা হয়। এ থেকে পাওয়া টাকা গুদামের সংশ্লিষ্ট সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।

জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পৌরসভায় ৪৬ টন ২১০ কেজি এবং ইউপিগুলোর মধ্যে বাংগড্ডায় ১৫ টন ৫১০ কেজি, রায়কোট উত্তরে ১৩ টন, রায়কোট দক্ষিণে ১১, মৌকরায় ২০, ঢালুয়াতে ২০ টন ৪৩০ কেজি, পেরিয়ায় ১৭, হেসাখালে ১২ টন ৯২০ কেজি, আদ্রা উত্তরে ১১, আদ্রা দক্ষিণে ১২, জোড্ডা পূর্বে ১৩, জোড্ডা পশ্চিমে ১২ টন ৬৯০ কেজি, বক্সগঞ্জে ১৪, সাতবাড়িয়ায় ৪ টন ৯৫০ কেজি, দৌলখাঁড়ে ১৫ ও বটতলী ইউপিতে ১১ টনসহ ভিজিএফের ২৬১ টন ৭১০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়। এর মধ্য থেকে আহমদ হোসাইন ও তার সহযোগীরা মিলে প্রতি বস্তা থেকে দু-তিন কেজি করে ১৭-২০ টন চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানদের।

এ প্রসঙ্গে জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আফসার বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নতুন। ১৩ টন চাল বরাদ্দ আসে আমার ইউপিতে। কিন্তু প্রতিটি বস্তায় কমপক্ষে দুই কেজি করে চাল কম পাওয়া যায়। তাই আমি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে চাল কিনে মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছি।’ খাদ্যগুদাম থেকে চাল ওজনে কম পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্টও দিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঁইয়া বাছির বলেন, ‘আমি নিজেও প্রতি বস্তায় কমপক্ষে দুই কেজি করে চাল কম পাই। বিষয়টি গুদাম কর্মকর্তাকে জানালে তিনি আমাকে বলেন, বস্তা নড়াচড়ার কারণে এমনটি হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন আর হবে না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য কর্মকর্তা আহমদ হোসাইন বলেন, ‘ওজনে শতভাগ চাল দিয়েছি। চাল বুঝে পাওয়ার বিষয়ে আমার কাছে তাদের (চেয়ারম্যান বা তাদের প্রতিনিধিরা) স্বাক্ষরও আছে।’

চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘সরেজমিনে গিয়ে গুদাম পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কথা বলব।’

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান মেহেবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

আর কুমিল্লা জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, ‘আমার লোক দিয়ে গোপনে তদন্ত করে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Daily Frontier News