Daily Frontier News
Daily Frontier News

কুমিল্লার দেবীদ্বারে রসুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের আখড়া

 

 

মোঃ বিল্লাল হোসেন, দেবীদ্বার প্রতিনিধিঃ

 

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল প্রত্যেক খতিয়ান থেকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা অতিরিক্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে নয়তো মিলছে না ভূমি উন্নয়ন কর দাখিলা/ রসিদ। ঘুষ বাণিজ্য শুধু নায়েব পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নেই। এই ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা ও পিয়নকে ভলিয়ম থেকে খতিয়ান খুঁজে দিলে তাদের কে দিতে হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত টাকা ঘুষ আদায়ের বিষয়টি অনুসন্ধানে থাকা সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধরা পরে।
গত ১০ ই অক্টোবর সোমবার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নে একজন মহিলার নিকট থেকে তিন টা নামজারি খারিজের জন্য ২৪ হাজার টাকায় চুক্তি/ ধার্য্য করে এবং বাংলাদেশ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা অতিরিক্ত ঘুষ হাতিয়ে নিচ্ছে রসুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল।
এছাড়া ও অতিরিক্ত টাকা ঘুষ দিলে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভূমি উন্নয়ন করের টাকা কমিয়ে কম টাকায় গ্ৰাহককে দিচ্ছে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা/রসিদ।

রসুলপুর গ্ৰামের আলী আহাম্মদ নামক বায়োজৌষ্ঠ এক বৃদ্ধ নায়েব মোঃ ইব্রাহিম খলিলকে নগদ ৭ হাজার টাকা দিলে নায়েব সাহেব আলী আহাম্মদের পিতা ওহাব উদ্দিন নামীয় ১৩৩৬ নং খতিয়ানের বিএস ১১৫০৯ দাগের ০৭ শতাংশ বাড়ী ও ০৮ শতাংশ পুকুর মোট ১৫ শতাংশ ভূমির ১৪০৭-১৪২৯ বাংলা সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ- ৩৮৪৫ টাকা এবং সুদ বাবদ-২৭০০ টাকা মোট ৬,৫৪৫ টাকার রসিদ দেয় বাকি ৪৫৫ টাকা নায়েব মোঃ ইব্রাহিম খলিল রেখে দেন।

গোপালনগর গ্ৰামের আঃ জলিল নামক এক প্রবাসীর স্ত্রী রসুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসলে নায়েব মোঃ ইব্রাহিম খলিল তার খতিয়ান নিয়ে হিসাব করে মোট ৫,৫৮০ টাকা দিতে বলেন। তখন প্রবাসীর স্ত্রী নায়েব কে নগদ ৫০০০ টাকা দিয়েছে। নায়েব মোঃ ইব্রাহিম খলিল আঃ জলিল গং নামীয় ৭৭২ নং খতিয়ানের বিএস ৩১৫১ দাগের ১১ শতাংশ পুকুর ভূমির ১৪০৫-১৪২৯ বাংলা সন পর্যন্ত বাংলাদেশ ভূমি উন্নয়ন কর ২৬৪০ টাকা ও সুদ ২০০০ টাকা মোট ৪৬৪০ টাকার রসিদ প্রবাসীর স্ত্রীকে দেওয়ার পর অনুসন্ধানে থাকা সাংবাদিক অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি প্রবাসীর স্ত্রীকে অবগত করলে তিনি নায়েব মোঃ ইব্রাহিম খলিলকে সাথে সাথে প্রশ্ন করেন যে আমি আপনাকে ৫০০০ টাকা দিলাম আপনি আমাকে ৪৬৪০ টাকার রসিদ দিলেন কেন? উওরে নায়েব সাহেব সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টাকা কমিয়েছে এবং এ জন্য অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছে বলে জানান। এক পর্যায়ে ভূমি অফিসে সাংবাদিক উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে ভূমি অফিসে নায়েব মোঃ ইব্রাহিম খলিল অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন।

অতিরিক্ত অর্থ (ঘুষ) আদায় বিষয়ে জানতে, নায়েব মোঃ ইব্রাহিম খলিলের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোনটা রেখে দেন। পরে একাধিক ফোন দিলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
২৪ই অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “কুমিল্লার দেবীদ্বারে রসুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের আখড়া শিরোনাম” এবং নায়েব মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর ছবিসহ পোস্ট করলে নায়েবসহ তাহার স্বজনরা সাংবাদিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে টাকার বিনিময়ে ফেসবুকে পোস্ট ডিলেট ও সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করে ও ব্যর্থ হয়।

এ বিষয়ে জানতে দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোন কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

 

Daily Frontier News